ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ, সরঞ্জাম ও ৯ হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে শ্যামপুর মডেল থানা-পুলিশ। এ ঘটনায় জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শ্যামপুর মডেল থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনা তদন্তে ওয়ারী বিভাগের যাত্রাবাড়ী ও শ্যামপুরসহ সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে জাহিদ হাসান ইমনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে পুলিশ।
এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ভোররাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বাগাশুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা-পুলিশের সহায়তায় ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাসা থেকে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত ১ কেজি ৫০০ গ্রাম কস্টিক সোডা, ১ কেজি ৬০০ গ্রাম সালফার, ৫ কেজি মারবেল, ২ কেজি ১ ইঞ্চি তারকাঁটা, লাল রঙের কস্টেপ ২০টি ও কালো রঙের কস্টেপ ১১টি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া তিন কার্টনে থাকা ৯ হাজার কাগজের মুখোশ, মুখোশ পরার ইলাস্টিকের ৩০ প্যাকেট এবং ককটেল তৈরির উপাদান গুঁড়া করার কাজে ব্যবহৃত জাইপান (Jaipan) ব্র্যান্ডের একটি ব্লেন্ডার ও একটি জার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন মুখোশগুলো কীভাবে তার কাছে পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। পুলিশের দাবি, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাতনামা এক ভ্যানচালকের সহায়তায় মুখোশগুলো তাঁর কাছে পাঠানো হয়। পরে বিভিন্ন নেতা-কর্মীর মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে সেগুলো তাঁর বাসায় রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তবে এসব তথ্যের বিষয়ে ইমনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, ইমনের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের শাহবাগ ও লালবাগ থানায় পৃথক দুটি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় ইমনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


