আর্থিক অনিয়মের প্রতিবাদে চাকরিচ্যুত, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দুই কর্মকর্তার অনশন

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

আর্থিক অনিয়মের প্রতিবাদে চাকরিচ্যুত, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দুই কর্মকর্তার অনশন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে টানা তৃতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চাকরিচ্যুত দুই কর্মকর্তা। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। একই সাথে অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন অনশনকারীরা।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পের সাবেক সহকারী পরিচালক তৌকির আহমেদ এবং সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ এরফানুল হক অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর ২টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি সোমবার তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে।

অনশনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পে নানা অনিয়ম হয়ে আসছে। নিয়মিত বই ক্রয় ও পাঠকসেবা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা হয়নি। এতে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের পাঠকরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তৌকির আহমেদ বলেন, “আমি প্রায় ১৪ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির কার্যক্রমে অনেক সময় গাড়ি মাসের পর মাস বন্ধ থাকে, বই কেনা হয় না। এতে একটি জেলার হাজারো পাঠক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়নি। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আমাদের পাওনার ৫০ শতাংশ দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। পরে নানা অজুহাতে ফান্ড ভেঙে শুধু জমাকৃত টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ এরফানুল হক জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাস কর্মীদের অর্ধেক বেতন দেওয়া হয়। অথচ পরে তারা জানতে পারেন, ওই সময়ে প্রকল্পের জন্য সরকার থেকে পূর্ণাঙ্গ অর্থ ছাড় করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, “আমরা এসব বিষয় নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা তা আমলে নেয়নি। বরং আমাদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়।”

অনশনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, পাঠকদের জমাকৃত ফেরতযোগ্য অর্থ এফডিআর করে রাখা হয়েছে, ফলে প্রয়োজনের সময় তা ফেরত দেওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের অর্থ অন্য খাতে ব্যয় এবং ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমেও অনিয়ম করা হয়েছে বলেও দাবি তাদের।

তাদের দাবি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। পাশাপাশি চাকরিতে পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পের প্রায় ১৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ৬৫ থেকে ৭০ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একই সময়ে নতুন নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অনশনকারীরা বলেন, “আমাদের দুটি প্রধান দাবি- চাকরিতে পুনর্বহাল এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম বন্ধ করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাব।”

এমপি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...