জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে ছিল। ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে নেওয়া হয়েছিল সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা। ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দায়িত্ব পালন করেন পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আনসার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি গেট, প্রান্তিক গেট, মীর মশাররফ হোসেন হল গেট, বিশ মাইল গেট, গেরুয়া গেটসহ সবগুলো প্রবেশপথে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া কার্ড দেখে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়। এর বাইরে কারো প্রবেশের সুযোগ ছিল না।
সাংবাদিকদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরবরাহ করা আইডি কার্ড দেখিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় । পুলিশ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বে থাকতে দেখা যায়। র্যাব ও বিজিবি সদস্যদের তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়। এছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সাদা পোশাকে পুলিশের বেশ নজরদারি ছিল।

পুলিশ সূত্র জানায়, সব হল কেন্দ্রে তিন স্তরের নিরাপত্তা গড়ে তোলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক রাশেদুল আলম বলেন, ভোট গণনার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কেন্দ্রগুলোয় এলইডি স্ক্রিনে সরাসরি ফলাফল প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।
জাকসু নির্বাচনে সকাল থেকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, অতিরিক্ত আইজিপি আওলাদ হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে এক হাজার ৬০০ পুলিশ সদস্য, সাত প্লাটুন বিজিবি, ৫০০ আনসার সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় হাজার সদস্য সুন্দরভাবে নির্বাচন সম্পন্নের লক্ষ্যে নিয়োজিত ছিলেন। নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিজিবি ও র্যাব সদস্যদের টহল ছিল।
সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীনুর কবীর বলেন, ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। কোনো বহিরাগতকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ফলাফল ঘোষণা হওয়ার আগ পর্যন্ত ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করে পুলিশ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

