যাত্রাবাড়ীতে মায়ের সামনে কলেজছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার

যাত্রাবাড়ীতে মায়ের সামনে কলেজছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মায়ের সামনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মেয়ে কলেজছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এক নির্মাণ ঠিকাদার। ঠিকাদারের হামলায় মা ও তার অন্য দুই সন্তান গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারীকে আশপাশের লোকজন আটক করেছে।

নিহত দিয়া মনি নবনী (২০) বোরহান উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী। তিনি যাত্রাবাড়ীর ভাঙ্গাপ্রেের সামাদ মেম্বারের বাড়ির বাসিন্দা। আহতরা হলেন—তার মা নুসরাত জাহান মৌসুমী (৪২), বোন জয়া (১২) ও ভাই মোয়াজ (১৫)। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে ওই বাড়ির নির্মাণকাজের ঠিকাদার আবু মুসা (৪৫) হঠাৎ ধারালো অস্ত্র নিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মা নুসরাত জাহানের সামনেই তার মেয়ে দিয়াকে কুপিয়ে জখম করে হামলাকারী। মায়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে হামলাকারীকে আটক করে এবং আহতদের উদ্ধার করে।

আহত অবস্থায় তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দিয়াকে ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত মা ও দুই সন্তানকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা গাড়িচালক বিল্লাল জানান, টাকাপয়সার দ্বন্দ্বই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। তিনি বলেন, ‘আবু মুসা কয়েক বছর ধরে ওই দশতলা ভবনের নির্মাণকাজের ঠিকাদারি করত। কাজ শেষে টাকা নিয়ে ঝগড়ার জের ধরেই সে এই নৃশংস হামলা চালায়।’

নিহত দিয়ার শ্বশুর সামাদ মেম্বার ওই বাড়ির মালিক। ঘটনার সময় দিয়ার স্বামী নবুউল্লাহ বাড়িতে ছিলেন না। তার ছোট সন্তান অসুস্থ থাকায় তিনি হাসপাতালে ছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। হামলাকারী আসামি আবু মুসা পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন