ভয়েড-এর মানববন্ধনে বক্তারা

গুম সারভাইভারদের নিরাপত্তাসহ পাঁচদফা দাবিতে মানববন্ধন

গুম সারভাইভারদের নিরাপত্তাসহ পাঁচদফা দাবিতে মানববন্ধন

গুম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি রাষ্ট্রীয় সহিংসতার কৌশল, যা সমাজ ও জাতির নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয় বলেন ভয়েড-এর বক্তারা। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে ভিন্নমতাবলম্বী ও সমাজকর্মীদের বিরুদ্ধে “জঙ্গিবাদ” বা “রাষ্ট্রবিরোধিতা”র অভিযোগ তুলে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের গুমের সময়কে মনে করিয়ে দিচ্ছে।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গুম ও জবরদস্তি গায়েবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ভয়েস অফ ইনফোর্সড ডিসাপিয়ার্ড পারসনস (ভয়েড)-এর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে গুমের শিকার ব্যক্তিগণ, তাদের পরিবার, মানবাধিকার আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে বক্তারা সরকারের প্রতি পাঁচদফা দাবি জানান।

এগুলো হলো: গুমের শিকার সারভাইভার ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রতিটি গুমের ঘটনা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে বিচারিক কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত করা, গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি, ভয়ভীতি ও হয়রানি বন্ধ করা এবং গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক সারভাইভার বলেন, “আমি গুম হয়ে ফিরে এসেছি, কিন্তু এখনো ঘরে ফিরতে পারিনি। প্রতিটি ডাকে সন্দেহ হয়, প্রতিটি রাত আতঙ্কে কাটাই। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কষ্ট শেষ হবে না।”

আরেকজন সারভাইভার বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাগুলো এখনো ঝুলছে। কিছুদিন আগে আবার থানায় যেতে বলা হয়েছিল। আমরা আবারও সেই পুরোনো দুঃস্বপ্ন ফিরে আসার আশঙ্কা করছি।”

সমাবেশ শেষে সংগঠনটি ঘোষণা করে, গুমের বিরুদ্ধে জাতীয় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও খুলনায় ধারাবাহিক কর্মসূচি নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন