রাজধানীতে আজও মিছিল করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও পরীক্ষার রুটিন পরিবর্তনের এক দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো মিছিলে অংশ নেন তারা। শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে অবস্থান ও সড়ক অবরোধের পর সচিবালয়ের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল পৌনে চারটার দিকে রাজধানীর উত্তরা, সায়েন্সল্যাব মোড় ও মিরপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লং মার্চ শুরু করেন পরীক্ষার্থীরা। গত সোমবারের (১৪ জুলাই) আলটিমেটাম অনুযায়ী মঙ্গলবারের মধ্যে পরীক্ষা স্থগিতের কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসায়, এদিন পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রাজপথে নেমে পড়েন তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবি—অযৌক্তিক ও তাড়াহুড়ো করে তৈরি করা রুটিন তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। এই ক্ষোভ থেকেই তারা কেবল পরীক্ষা পেছানোর দাবিই তুলছেন না, বরং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলেন তারা।
শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব ও অন্যান্য মোড় অতিক্রম করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন—এমন খবরের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিকেলের দিকে সচিবালয় অভিমুখী সড়কগুলোতে বসানো হয় কঠোর ব্যারিকেড।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয় পুরো সচিবালয় চত্বর। সড়কের প্রতিটি এন্ট্রি গেটে হেসেই চলে তালা আর লোহার ভারী শিকল। দুই পাশেই মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জিরোপয়েন্ট ও প্রেসক্লাবের পাশের রাস্তায় ব্যারিকেডে দিয়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।
শিক্ষার্থীদের এই লং মার্চ ও পুলিশের কড়া অবস্থানের কারণে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সায়েন্সল্যাব, উত্তরা ও মিরপুরের মতো ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। গন্তব্যহীন হয়ে পড়েন সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা।
পরীক্ষা কেন্দ্রের চত্বর ছেড়ে রাজপথের এই আন্দোলনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে আজকের দিনটি। একীভূত তরুণ সমাজের এই দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ১. দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাগুলো পুনরায় দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ২. একই বিষয়ে পুনঃপরীক্ষা হলে পূর্বের পরীক্ষা ও পুনঃপরীক্ষার মধ্যে যে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া যাবে, সেটিই চূড়ান্ত ফল হিসেবে গণ্য করতে হবে। ৩. প্রশ্নপত্রে ভুল বা অসংগতি থাকা প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর সব পরীক্ষার্থীকে দিতে হবে। ৪. বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে প্রস্তুতির জন্য কিছুদিন বিরতি দিয়ে পরে পরীক্ষা শুরু করতে হবে। ৫. হঠাৎ প্রশ্নপত্রের ধরণ পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নম্বরায়ন করতে হবে। ৬. পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় কঠোর আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

