বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সৃজনশীল ও মননশীল প্রজন্ম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ঢাকার গ্রিন মডেল টাউনের ‘পার্ক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর সায়েন্স অ্যান্ড ইনোভেশন ফেয়ারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাঁরা এই কথা বলেন।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মহসিন মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মাহবুব উদ্দিন খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদ এবং প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মতিন পাটোয়ারীসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আমূল বদলে দিয়েছে। আধুনিক মানবসভ্যতার অগ্রগতি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন। বিজ্ঞান হলো প্রকৃতির বিভিন্ন রহস্য অনুসন্ধান ও জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া; আর উদ্ভাবন হলো সেই জ্ঞান, চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু তৈরি করা কিংবা বিদ্যমান সমস্যার আরও কার্যকর সমাধান বের করা। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সমন্বয়ই আমাদের ভবিষ্যৎকে আরও আধুনিক ও সম্ভাবনাময় করে তুলতে পারে।
আমাদের জীবনে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথমত যোগাযোগ ও যাতায়াত খাতে ইন্টারনেট, স্মার্টফোন ও আধুনিক প্রযুক্তির কারণে পৃথিবী আজ হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দ্রুত যাতায়াত নিশ্চিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মাধ্যমে জটিল রোগের চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে। তৃতীয়ত, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির সুবাদে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই বিশ্বের জ্ঞান অর্জন করতে পারছে এবং কর্মক্ষেত্রের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বেড়েছে।
পার্ক ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রশংসা করে তিনি বলেন, পার্ক ইন্টারন্যাশনাল-এর মতো একটি আধুনিক ও শিক্ষামুখী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভবিষ্যতের পৃথিবীকে নেতৃত্ব দেবে এমন প্রজন্ম গড়ে তুলতে শুধু প্রচলিত জ্ঞান অর্জন যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন সৃজনশীল চিন্তা, গবেষণার মানসিকতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনের আগ্রহ।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের শুধু বইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না। তাদের জানতে হবে—কীভাবে একটি সমস্যা চিহ্নিত করতে হয়, কীভাবে প্রশ্ন করতে হয় এবং কীভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সেই সমস্যার সমাধান করা যায়। একটি ছোট ধারণা থেকেই একদিন বড় কোনো উদ্ভাবনের জন্ম হতে পারে। তাই আমাদের শিক্ষার্থীদের ‘আমি পারব, আমি নতুন কিছু তৈরি করব, আমি আমার দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করব’—এই আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রযুক্তির নেতিবাচক দিক সম্পর্কে সতর্ক করে প্রধান অতিথি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যেমন অসংখ্য সুফল রয়েছে, তেমনি এর অপব্যবহার নানা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই প্রযুক্তিকে দায়িত্বশীল, নিরাপদ ও মানবকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী নিশ্চিত করার ওপর জোর দিতে হবে।
পরিশেষে তিনি বলেন, বিজ্ঞান আমাদের জ্ঞান দেয়, প্রযুক্তি সেই জ্ঞানকে কাজে লাগায়, আর উদ্ভাবন আমাদের নতুন সম্ভাবনার পথ দেখায়। আজকের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ ও উদ্ভাবক। তাই পার্ক ইন্টারন্যাশনাল-এর মতো শিক্ষাঙ্গনে বিজ্ঞানমনস্কতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তার চর্চা যত বেশি হবে, আমরা একটি জ্ঞানভিত্তিক, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ততটাই সক্ষম হব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


