পবিত্র রমজান উপলক্ষে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রির প্রথম দিনেই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ক্রেতাদের দীর্ঘলাইন লক্ষ্য করা গেছে। টিসিবির ভ্রাম্যট্রাকের পেছনে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি করে পণ্য কিনেছেন ক্রেতারা। অনেকেই পণ্য না পেয়ে খালি হাতেই ফিরে গেছেন।
মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে সচিবালয়ের উল্টো দিকে তোপখানা রোডে গিয়ে দেখা গেছে, টিসিবির ভ্রাম্যট্রাকের পেছনে দুই শতাধিক নারী পুরুষ ভিড় করছেন। একটু পরপর নারী-পুরুষের লাইনে বিশৃঙ্খলা লক্ষ্য করা যায়। এ সময় বেসরকারি চাকরিজীবী নাদিরা খাতুন আমার দেশকে বলেন, লাইনে কোনো শৃঙ্খলা নেই; যার গায়ে জোর আছে কিংবা নেতাদের সঙ্গে পরিচয় আছে তারা বারবার কিনছেন। কিন্তু আমরা তিনঘন্টা আগে এসেও পণ্য কিনতে পারিনি।
ময়না নামের নারী বলেন, নেতাদের লোকজন বস্তা ভরে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা দুই ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য পাইনি; অনেকটা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছি।
আবুল কালাম আজাদ নামের পত্রিকা হকার আমার দেশকে বলেন, পণ্য বিক্রির কোনো নিয়মনীতি না থাকায় পুরো সময় জোরেই চলছে বিশৃঙ্খলা। সাধারণ মানুষ পণ্য কিনতে পারছেন না। শৃঙ্খলা ফেরাতে এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।
একই ধরনের চিত্র লক্ষ্য করা গেছে সুরিটোলা স্কুল, সচিবালয়ের সামনে ও কারওয়ানবাজারের টিসিবি ভবনের সামনে। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া টিসিবির এই কার্যক্রম সপ্তাহে শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া ১২ মার্চ পর্যন্ত বিক্রয় কার্যক্রম চালু থাকবে। প্রতিদিন ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫০টি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ২০টি বাকি ৭টি মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৫টি করে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য বিক্রি করবে। অবশিষ্ট ৫৫ জেলায় ৫টি করে সর্বমোট ৪৫০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি।
এবার প্রতি ট্রাক থেকে একসঙ্গে ৪০০ জন সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে পারছেন। টিসিবি জানায়, প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫৯০ টাকায় পাঁচ ধরনের পণ্যের প্যাকেজ বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে আছে ২ লিটার ভোজ্য তেল, ২ কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি, এক কেজি ছোলা ও আধা কেজি খেজুর। প্যাকেজের সব পণ্য একসঙ্গে নিতে হচ্ছে।
সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে টিসিবির ট্রাকের অপেক্ষা করছিলেন ক্রেতারা। প্রেসক্লাব এলাকায় পণ্য বিক্রি শুরু হলে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে হট্টগোল তৈরি হয়। দুপুরের দিকে নারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এ সময় লাইনের বাইরে পণ্য দেওয়ার অভিযোগও করেন কয়েকজন ক্রেতা।
নিমতলি এলাকা থেকে আসা মনোয়ারা বেগম বলেন, ডিলারদের লোকজন ঠিক নাই; তারা মুখ দেখে একজনকে একাধিকবার পণ্য দিচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষ পণ্য কিনতে পারছেন না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

