অনাগত সন্তানের নিরাপত্তা চান মালয়েশিয়ায় নিহত প্রবাসীর স্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

অনাগত সন্তানের নিরাপত্তা চান মালয়েশিয়ায় নিহত প্রবাসীর স্ত্রী

‎মালয়েশিয়ায় কর্মরত অবস্থায় নিহত প্রবাসী সুমন হাওলাদারের লাশ গ্রহণ, ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি এবং প্রতারণা প্রতিরোধে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তার পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ফাতেমা আক্তার। এসময় নিজের অনাগত সন্তান ও তার নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সরকারের কাছে চার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মৃতদেহ হস্তান্তর গেটে এক সংবাদ সম্মেলন করে দাবিগুলো জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

ফাতেমার দাবিগুলো হলো -স্বামীর লাশ গ্রহণ ও শেষবারের মতো দেখার আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা, মালয়েশিয়ায় কর্মরত অবস্থায় প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা প্রকৃত স্ত্রী ও অনাগত সন্তান মা হিসেবে তার নামে নিশ্চিত করা, জালিয়াতি ও মিথ্যা তথ্য প্রদানের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার ও অনাগত সন্তানের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদান করা।

‎ফাতেমা আক্তার জানান, তার স্বামী সুমন হাওলাদার মালয়েশিয়ায় কর্মরত ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তাদের বাগদান এবং দুই বছর আগে বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের পর কিছুদিন দেশে অবস্থান করে তিনি পুনরায় মালয়েশিয়ায় ফিরে যান। গতবছরও তার স্বামী দেশে আসলে তারা একসাথেই বসবাস করেছে। এরপর আবার বিদেশে যাওয়ার পর সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ তিনি জানতে পারেন, তার স্বামী মালয়েশিয়ায় স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন।

‎‎ফাতেমার অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পরপরই তার শ্বশুর জোরপূর্বক তার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার একটি হার, দুটি কানের দুল ও তিনটি আংটি নিয়ে যান। একই সঙ্গে তিনি মালয়েশিয়ায় স্বামীর কর্মস্থলের কোম্পানির কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দাবি করেন, সুমন হাওলাদার অবিবাহিত ছিলেন। এ লক্ষ্যে একটি ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে কোম্পানিতে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

‎বর্তমানে পাচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফাতেমা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার গর্ভে থাকা অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

‎এসময় ফাতেমার সঙ্গে থাকা তার ভাই আব্দুল কুদ্দুস অভিযোগ করেন, সুমন হাওলাদারের বোনের জামাই রাসেল, জসিম এবং ভাতিজা নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

‎‎এ প্রেক্ষিতে ফাতেমা সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি একজন অসহায় নারী। আমার এবং আমার অনাগত সন্তানের অধিকার নিশ্চিত করতে আমার পাশে দাড়ান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...