জীবনের জন্য অপরিহার্য বায়ু আমরা শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করি। কিন্তু সেই বায়ু দূষিত হলে এবং প্রতিনিয়ত দূষিত বায়ু গ্রহণ করতে হলে ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে মানুষ ফুসফুসের নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন। তাই শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে ফুসফুসের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বক্তারা বলেছেন, ফুসফুসের সুস্বাস্থ্য রক্ষা, শ্বাসতন্ত্রের রোগ প্রতিরোধ এবং ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখার সমন্বিত প্রচেষ্টাই পারে নির্মল শ্বাস ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে।
রোববার ‘A Lifetime of Lung Health’ বা ‘আজীবন ফুসফুসের সুস্বাস্থ্য’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বিশ্ব ফুসফুস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগ স্থানীয় একটি হোটেলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
দ্য চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং অ্যারিস্টোফার্মা পিএলসির সহযোগিতায় আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় মডারেটর হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর ডা. এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং চ্যাবের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত হোসাইন ভূঁইয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমিম, এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. রৌশনী জাহান ও ডা. জিয়াউল হক।
এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ রেজাউল হক, একই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আদনান ইউসুফ চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, ইউনিকো হসপিটালস পিএলসির রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. মোহাম্মদ সানা উল্লাহ সরকার, জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন, অ্যারিস্টোফার্মা লিমিটেডের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্যবিষয়ক সিনিয়র সাংবাদিক আতাউর রহমান কাবুল এবং চ্যানেল আইয়ের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট জান্নাতুল বাকেয়া কেকা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. তানিয়া রহমান মিতুল।
গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেন, ফুসফুসের সুস্থতা নিশ্চিত করতে ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য বর্জন করতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ তথা বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
তারা বলেন, প্রচলিত তামাকপণ্যের পাশাপাশি ই-সিগারেট, ভেপিংসহ বিভিন্ন নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহারও ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর। এসব পণ্যের ব্যবহার বন্ধ করার পাশাপাশি অন্যান্য নিকোটিন পণ্যের বিস্তার রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, ফুসফুসের কোনো রোগের লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে জটিলতা কমানো সম্ভব।
ফুসফুসের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জনসচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেন আলোচকরা। তারা বলেন, ফুসফুসের স্বাস্থ্য রক্ষায় যেহেতু সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি, তাই সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যতথ্য পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বক্তারা ফুসফুসের স্বাস্থ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো, ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগ দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার বিষয়ে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যম, নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


