পাহাড়-সমতল, ধর্ম-বর্ণে বিভাজন নয়, সবাই বাংলাদেশি: ডেপুটি স্পিকার

পাহাড়-সমতল, ধর্ম-বর্ণে বিভাজন নয়, সবাই বাংলাদেশি: ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, আমাদের পরিচয়ের ক্ষেত্রে পাহাড়, সমতল, জাতিগোষ্ঠী কিংবা ধর্ম—কোনো কিছুই বিভাজনের কারণ হতে পারে না। আমরা সবাই এই প্রিয় জন্মভূমির নাগরিক, আমাদের পরিচয় আমরা সবাই বাংলাদেশি। সকলের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করে সাম্য, স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যেই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক ধর্মই সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের শিক্ষা দেয়। যার যার ধর্মীয় অনুশাসন যথাযথভাবে ও সুন্দরভাবে পালন করলে সমাজব্যবস্থা আরও বেশি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

শুক্রবার রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত ‘ঢাকা ওয়ানগালা ২০২৬’ উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দুর্গাপূজার প্রসঙ্গ টেনে ডেপুটি স্পিকার বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সম্প্রতি যে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা ছিল অত্যন্ত আনন্দমুখর ও উৎসবমুখর। এর আগে এত আনন্দঘন পরিবেশে এই দেশে কখনো দুর্গাপূজা পালিত হয়নি। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো, বর্তমানে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আমরা একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ফিরে পেয়েছি; যেখানে জাতি, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সকলের বাকস্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা মানুষের আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে পেরেছি বলেই আজ সবাই পরিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারছেন।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ ও শাণিত করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্রিত করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম এই দেশে ১০টি কালচারাল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার মধ্যে নেত্রকোনার দুর্গাপুরেও একটি কালচারাল একাডেমি রয়েছে। দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে এসব প্রতিষ্ঠানের অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে। তিনি ওয়ানালা উদযাপন কমিটির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আশ্বাস দিয়ে বলেন, বনানী এলাকায় একটি কালচারাল একাডেমি এবং একটি গির্জা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ খুব শীঘ্রই গ্রহণ করা হবে।

আসন্ন বড়দিন ২০২৬ উদযাপন প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, খ্রিস্টীয় ধর্মাবলম্বীরা বড়দিন উদযাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দুই কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী খ্রিস্টান ধর্মের প্রতি গভীর সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করতে আবেদনের চেয়ে এক কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট তিন কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন একজন প্রধানমন্ত্রীর শাসনব্যবস্থাই দেখতে চায়, যিনি এভাবে সকল ধর্মের প্রতি, মানবতার প্রতি এবং দেশের প্রতিটি মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল থেকে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করবেন।’

দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিজম থেকে মুক্ত হয়ে একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতকে পেছনে ফেলে সকলের অংশগ্রহণে আগামীতে এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে প্রত্যেকের মানবিক মর্যাদা সুরক্ষিত থাকবে, সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং প্রতিটি নাগরিকের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত হবে। গণতন্ত্রকে আরও শাণিত ও টেকসই করতে তিনি শ্রেণি, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সকলের ঐকান্তিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।’

‘ঢাকা ওয়ানগালা উদযাপন কমিটি ২০২৬’ এই বর্ণাঢ্য উৎসবের আয়োজন করে। ঢাকা ওয়ানগালা ২০২৬-এর নকমা জন দ্রংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঢাকা ওয়ানগালার প্রাক্তন নকমা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক দীপঙ্কর রিছিল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর সাদাত, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর আবাসিক প্রতিনিধি ড. সুজান ভাইজ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আন্দ্রিয় দ্রং, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল কবির, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রেজাউর রহমান ফাহিম, বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মশিউর রহমান, ঢাকা কর অঞ্চল-৩-এর যুগ্ম কর কমিশনার কর্নেলিউস কামা, নয়ানগর ক্রিশ্চিয়ান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের সভাপতি রিপন রিচার্ড সরদার, ঢাকার দি ক্রিশ্চিয়ান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট মাইকেল গোমেজ এবং গুড নেইবারস বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড বার্টিন গোমেজ।

মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে ডেপুটি স্পিকার ঢাকা ওয়ানগালা ২০২৬-এর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। আলোচনা পর্ব শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন