নানা সমস্যায় জর্জড়িত রাজধানী ঢাকা। রাজপথ থেকে অলিগলি ও ফুটপাত—কোথাও স্বস্তি নেই। নগরীর চারপাশের নদীগুলোর দূষণ বাড়ছে, মুক্ত হচ্ছে না অবৈধ দখল, কমছে না পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার। ক্রমেই বিষাক্ত হয়ে উঠছে পরিবেশ। এ কারণে প্রতি বছর প্রায় এক লাখ মানুষকে শ্বাসকষ্টসহ সংশ্লিষ্ট সমস্যা নিয়ে যক্ষ্মা হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন বাসিন্দারা।
বায়ুদূষণে এই নগরী মাঝে মধ্যেই বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষস্থানে অবস্থান করে। আবার ঢাকায় যানজটের কারণে প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। এতে রাষ্ট্র ও জনগণের সম্মিলিত আর্থিক ক্ষতি হয় বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এসব তথ্য বিশ্বব্যাংক, যক্ষ্মা হাসপাতাল, রোড সেফটি ফাউন্ডেশন, ঢাকা উত্তর (ডিএনসিসি) ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ থেকে নেওয়া হয়েছে।
নগরীর সর্বত্র শুধু জটলা, গাড়ি ও মানুষের ভিড়। তার ওপরে ফুটপাতজুড়ে দোকানপাট, ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা, দেদারসে চলছে লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ির তাণ্ডব, সুয়ারেজের উন্মুক্ত লাইন, সড়কের বহু ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি হওয়ায় বিপজ্জনক অবস্থায় খোলা থাকছে।
আবার ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ, ধুলা-ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন নগরীতে যানজটের একবার আটকে গেলে সহজে তা থেকে মুক্তি মেলে না। রোগীসহ অ্যাম্বুলেন্স যখন যানজটে আটকে পড়ে তখন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়, এমনকি পথে যানজটের কারণে অনেক রোগীর মৃত্যুও ঘটে।
ঢাকা বিশ্বের অন্যতম মেগা সিটি। ৩০৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই শহর দেশের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধার কেন্দ্রবিন্দু। এ কারণে জীবিকা, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ যেকোনো প্রয়োজনে মানুষ প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছে হাজারো সমস্যায় জর্জরিত এই নগরীতে। ধারণক্ষমতার বেশি মানুষকে জায়গা করে দেওয়া ঢাকা নগরীর পরিবেশের যে বিপর্যয় দিনকে দিন ঘটছে তাতে নগরীতে বাস করা তো দূরে থাক শ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে উঠছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ২৫০ শয্যার টিবি (যক্ষ্মা) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীত আসতেই রোগীর ভিড় বাড়ে হাসপাতালটিতে। কেউ এসেছেন যক্ষ্মা নিয়ে, কেউ হাঁপানি বা অ্যাজমা নিয়ে, কেউ শ্বাসকষ্ট নিয়ে। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আয়শা আক্তার আমার দেশকে বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতি যে পর্যায়ে গেছে, তার সঙ্গে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার একটা সম্পর্ক নিশ্চয়ই আছে। দূষণ বেড়ে যাওয়ার এ সময় রোগীও বাড়ে।
নগর পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ আদিল খান আমার দেশকে বলেন, আইনের বিধিবিধান ও নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়নে অনীহা বা অবজ্ঞাই এই দুরবস্থার মূল কারণ। যা জবাবদিহিমূলক প্রয়োগ ছাড়া এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। তাই যথাযথ প্রকল্প গ্রহণ, দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল কর্মসূচি বাস্তবায়ন, একই সঙ্গে বাস্তবায়নকালীন জনভোগান্তি নিরসন নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি নগরসেবায় জবাবদিহিহীনতার অবসান ঘটাতে ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।
যানজট অন্যতম প্রধান সমস্যা
বর্তমানে নাগরিকের অপরিসীম ক্ষতি, ক্ষোভ ও বিরক্তির একটা বড় কারণ যানজট। এতে প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে অগণিত কর্মঘণ্টা। এর অর্থমূল্য নির্ণয় করা গেলে দেখা যেত প্রতিদিন বিশাল অঙ্কের অর্থের অপচয় হচ্ছে শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকায়। যানজট মোকাবিলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করার জন্য বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এতেও সমস্যার আশানুরূপ অগ্রগতি হচ্ছে না।
বিক্ষোভের নগরী ঢাকা
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিদিনই কেউ না কেউ রাস্তায় নেমে দাবি জানাচ্ছেন। যানজটের এই শহরে কোনো একটি সড়ক অবরোধ করলে তার প্রভাব পড়ে অন্য সড়কগুলোতেও। এতে যানজট এমনভাবে বেড়ে যাচ্ছে যে চলাফেরাই দায় হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো দিন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি থাকায় স্থবির হয়ে পড়ে নগরী। আবার সড়কের অর্ধেক হকার ও রাস্তা পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে থাকায় ফুটপাতেও হাঁটা যায় না।
রাজধানীতে শব্দ-তাণ্ডব
বায়ুদূষণের শীর্ষে থাকা ঢাকা শব্দদূষণেও চূড়ায় অবস্থান করছে। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) ২০২২ সালের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। যেখানে বিশ্বের ৬১ শহরের শব্দদূষণের মাত্রা তুলে ধরে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ‘ফ্রন্টিয়ারস ২০২২ : নয়েজ, ব্লেজেস অ্যান্ড মিসম্যাচেস’ শীর্ষক এ প্রতিবেদন বলছে, ঢাকায় শব্দের সর্বোচ্চ তীব্রতা ১১৯ ডেসিবল, যা এ প্রতিবেদনে আসা শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। যেখানে স্বাভাবিক মানুষের জন্য ক্ষতিকর শব্দের মাত্রা ৮০ থেকে ৮৫ ডেসিবেল পর্যন্ত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৯৯৯ সালের গাইডলাইন অনুযায়ী, আবাসিক এলাকার জন্য শব্দের গ্রহণযোগ্য সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল ৫৫ ডেসিবল, বাণিজ্যিক এলাকার জন্য ৭০ ডেসিবল। ২০১৮ সালের সর্বশেষ হালনাগাদ গাইডলাইনে সড়কে শব্দের তীব্রতা ৫৩ ডেসিবলের মধ্যে সীমিত রাখার সুপারিশ করা হয়। সে হিসাবে ঢাকার বাসিন্দাদের পথ চলতে গিয়ে জাতিসংঘের বেঁধে দেওয়া সীমার দ্বিগুণ মাত্রার শব্দের অত্যাচার সহ্য করতে হয়।
সড়কগুলো যেন মৃত্যুকূপ
রাজধানীর অধিকাংশ সড়ক বেহাল। মূল সড়ক থেকে অলিগলি। সর্বত্র এবড়ো-খেবড়ো আর খানাখন্দে ভরা। কোথাও আবার অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে পানি জমলে ডোবায় পরিণত হয়। যানবাহনগুলো গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। অনেক সড়কের চিত্রই এখন এমন। ঢাকা উত্তর সিটিতে সড়কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় এক হাজার ৩৪০ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রধান সড়ক ১৯০ কিলোমিটার, সংযোগ সড়ক ৩৪৫ কিলোমিটার, আর অলিগলি ৮০৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে নতুন যুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডসহ প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার সড়ক এখনই সংস্কারের প্রয়োজন, যা মোট সড়কের প্রায় ২৫ শতাংশ।
ধুলা-ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন নগরী
শীত ও গ্রীষ্মকালে রাজধানীর সড়কগুলোতে থাকে ধুলার দাপট। বর্ষায় বৃষ্টি হলে পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর্যন্ত পরিবেশ স্বস্তিদায়ক থাকলেও পরক্ষণেই দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। এতে যানবাহনের যাত্রী ও পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগের শেষ নেই। এভাবে ধুলার মধ্যে চলাচলের কারণে শিশু থেকে সব বয়সি মানুষের ঠান্ডা, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। রাজধানীর সর্বত্রই এখন ধুলোবালিতে একাকার। এতে নাকাল নগরবাসী।
রাজধানীর সবকিছুই ঢেকে যাচ্ছে ধুলার চাদরে। এ বছর নগরীর বিভিন্ন স্থানে অন্যান্য বছরের তুলনায় বেড়েছে ধুলার পরিমাণ। এর সঙ্গে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। টিবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার দেশকে জানায়, বছরে লক্ষাধিক রোগী আসে শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে। ২০২৪ সালে ৯০ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে এসেছিল, চলতি বছরের ১০ মাসের মধ্যেই রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। টিবি হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আয়েশার মতে, ধুলায় বায়ুদূষণের কারণে রাজধানীতে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, চোখের সমস্যা, ব্রঙ্কাইটিস, সর্দি, কাশি, হাঁচিসহ ফুসফুস ও ক্যানসারের রোগীর সংখ্যাই বেশি। ধুলাদূষণের কারণেই নানা সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে রাজধানীবাসী। ধুলাদূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।
অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং ও ফুটপাত দখল
রাজধানীবাসী যানজট ও জনদুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছে না। এ অসহনীয় যানজটের মূল কারণ শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলোয় রাস্তার দুই পাশে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং ও ফুটপাত দখল। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, ‘ঢাকার ৭৫ শতাংশ সড়ক অবৈধ দখলে রাখছে প্রাইভেটকারগুলো। এছাড়া ফুটপাত দখলের কারণে মূল রাস্তার ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।’
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, একটি আধুনিক নগরীতে মোট আয়তনের ২০-২৫ শতাংশ সড়ক থাকা প্রয়োজন। কিন্তু ঢাকায় আছে মাত্র ৭-৮ শতাংশ। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় শহরে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ সড়ক আছে। দুই কোটির বেশি মানুষের একটি নগরীতে জনসাধারণের চলাচলের জন্য অপ্রতুল সড়ককে যান চলাচলের জন্য আরো কঠিন করে তুলেছে রাস্তার দুই পাশে অবৈধ পার্কিং।
জলাবদ্ধতার নগরী ঢাকা
সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীর সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে। একটু বৃষ্টি হলেই নগরীর সড়কগুলোতে কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমর পানি পর্যন্ত হয়ে যায়। তখন এই পানি ভেঙে মানুষকে কর্মস্থলে যেতে হয়, শিক্ষার্থীদের যেতে হয় স্কুল-কলেজে। রাস্তায় জমে থাকা পানিতে অনেক সময় খানাখন্দে যানবাহন পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয় পথচারীরা। ঘনবসতিপূর্ণ এই শহরে এমনিতেই দীর্ঘ যানজটের কারণে প্রতিদিন রাজধানীবাসীকে নাকাল হতে হয়। তার ওপর একটু বৃষ্টি হলেই রাজপথে পানি জমে যে ভোগান্তি তৈরি হয় সেটা নগরবাসীর জীবনে এক বিভীষিকা।
বেপরোয়া দখলদারিত্বে ভরাট হয়ে যাচ্ছে রাজধানীর চারপাশের নদীগুলো। খালের বুকে উঠছে দালান। রাজধানীর আশপাশে কয়েকটি খাল মৃতপ্রায় অবস্থায় থাকলেও অধিকাংশের অস্তিত্বহীন। এক সময় বেশ কয়েকটি জলাশয় থাকলেও এগুলোর অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে অনেক আগেই। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাদের গালভরা বুলি এখন কথার কথা হিসেবেই জনগণের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে।
বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে গুলশান-বনানীও
সময়ের বিবর্তনে ঢাকার নতুন বাণিজ্যিক কেন্দ্রের রূপ পেতে যাচ্ছে গুলশান-বনানী। বারিধারাসহ এসব ভিআইপি আবাসিক এলাকা হারাচ্ছে বাসযোগ্যতা। গুলশান-বনানীর নকশায় বাণিজ্যিক প্রয়োজনে আলাদা স্পট আছে। অথচ ধীরে ধীরে ঘিঞ্জিতে পরিণত হচ্ছে পরিকল্পিত নকশায় গড়ে ওঠা এলাকা দুটি। আর এজন্য ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। রাজধানীর আবাসিক এলাকাগুলো গড়ে উঠেছিল বসবাসের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে, কিন্তু বাণিজ্যিকীকরণে অসুস্থ আবহ শুরু হয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সব আবাসিক এলাকায়। বাদ নেই উত্তরাও। এ প্রবণতা রাজধানীকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে।
বর্জ্য অব্যবস্থাপনা ও ফুটপাতজুড়ে খোলা প্রস্রাবখানা
অধিকাংশ ফুটপাত উন্মুক্ত প্রস্রাবখানায় পরিণত হয়েছে। দুর্গন্ধে চারপাশে টেকা দায়। পথ চলতে অসুবিধা হচ্ছে পথচারীদের। বেশি বিপাকে পড়ছেন ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়া নারীরা। এ চিত্র রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক থেকে শুরু করে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। যাত্রাবাড়ী থেকে টিকাটুলির রাস্তা বা ফুটপাত বলে কিছু নেই। পুরোটাই প্রস্রাবখানা।
ম্যানহোলের ঢাকনা বিপজ্জনক অবস্থায় খোলা
রাজধানীর সড়কে খোলা ম্যানহোল আতঙ্ক বাড়ছে, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। রাজধানীর অন্তত অর্ধশতাধিক এলাকার সড়ক ও অলিগলিতে ম্যানহোলের ঢাকনা নেই। প্রতিদিনই নগরবাসীকে ঢাকনাবিহীন ও ভাঙাচোরা ম্যানহোলের ঝুঁকি নিয়ে পথ চলতে হয়। মাঝে মধ্যে এসব ম্যানহোলে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। আহত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক মৃত্যুও হয়েছে।
অটোরিকশা ও অবৈধ গাড়ির তাণ্ডব
চলাচলের অনুমোদন না থাকলেও রাজধানীর সব সড়কে চলছে অটোরিকশার তাণ্ডব। ধীরগতির এসব গাড়ি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা এসব যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে পুলিশ, রাজনৈতিক নেতারা টাকা নিয়ে মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলতে দিচ্ছেন। লাখ লাখ চালক-শ্রমিকের জীবিকার প্রশ্নে সরকারও এসব যান বন্ধে কঠোর হয় না।
পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নাগরিকদের প্রত্যাশা যথাযথভাবে পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে না। ফুটপাতগুলো হকারমুক্ত করতে সময়ে সময়ে অভিযান চলে, কিন্তু এই হকারদের কাছ থেকে যারা মাসোহারা নেন, তাদের পরিচয় জানা থাকলেও কখনো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এ কারণে অনিয়ন্ত্রিতভাবে হকারের সংখ্যা বাড়ছে। চোখের সামনেই খাল-জলাশয় বেদখল হয়ে গেলেও সিটি করপোরেশন, রাজউকসহ নগর প্রশাসন নির্বিকার। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই এই নগরী বসবাসের জন্য পুরোপুরি অযোগ্য হয়ে পড়বে।
রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ কমানোর ব্যাপারে ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, নাগরিক সংকট কমাতে বর্তমান সরকারের উচিত ছিল গত এক বছরে সিটি করপোরেশনের সংস্কার ও সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে ফোকাস করা। সব বিভাগ বা সংস্থাগুলোকে ওয়ান ইন আমব্রেলার মধ্যে আনতে হবে। আবার সিটি করপোরেশনের বাজেট অত্যন্ত কম। উন্নয়নের জন্য অন্য বিভাগগুলো যেখানে প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করে সেখানে সিটি করপোরেশনকে কৌশল হিসেবে নিতে হয়।
ডিএসসিসির প্রশাসক মাহমুদুল হাসান বলেন, তিনি নতুন এসেছেন। তবে তিনি চেষ্টা করবেন সিটি করপোরেশনের নাগরিক সংকটগুলো দূর করতে।

