রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় আবাসিক হোটেল ও স্পা সেন্টারে অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি মাদক সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং ছিনতাই প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি জোরদারেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজারবাগস্থ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে জুলা মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ডিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন ডিএমপি কমিশনার।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে। মাদক কারবারি ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে। থানা এলাকায় হোটেল ও স্পা সেন্টারে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড যাতে পরিচালিত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডিএমপি কমিশনার। ছিনতাই প্রতিরোধে ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে ক্রাইম বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সিটিটিসি ও ডিবিকে ২৪ ঘণ্টা মাঠে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অভিযান জোরদারের পাশাপাশি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং ক্রাইম বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও তদন্ত কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা যথাযথভাবে যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন ডিএমপি কমিশনার। অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস্, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত কমিশনার (অ্যাডমিন) মোঃ মাসুদ করিম, অতিরিক্ত কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি),অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্) মোহাম্মদ ওসমান গণি, অতিরিক্ত কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, ডিএমপির সকল থানার অফিসার ইনচার্জরা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই মাসে শ্রেষ্ঠ হলেন যারা-
ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানসহ উত্তম কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাগণকে পুরস্কৃত করা হয়। জুলাই মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উত্তম কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার। জুলাই মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে মিরপুর বিভাগ। মূল্যায়নে শ্রেষ্ঠ থানার স্বীকৃতি অর্জন করেছে মিরপুর থানা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তরা-পশ্চিম থানা এবং তৃতীয় স্থান বাড্ডা থানা। সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শামীম হোসেন প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। শ্রেষ্ঠ এসআই প্রথম স্থান অর্জন করেছেন পল্লবী থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন ভাটারা থানার এসআই দেবাশীষ মন্ডল এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন পল্টন মডেল থানার এসআই অমিত কুমার বিশ্বাস। এএসআইদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই নাজমুল ইসলাম এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে মোহাম্মদপুর থানার এএসআই নাদের আলী। গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম । ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগ। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক সার্জেন্টদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে মিরপুর-ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. সামসুদ্দীন সরকার এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে যাত্রাবাড়ী-ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মোঃ শাহরিয়ার খান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


