রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উত্তরায় প্লট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় মুন্সী মঞ্জুর-ই-এলাহী ওরফে মঞ্জুরুল আলম নামের এক আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন এই আদেশ দেন। বাদীর পক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী প্রশান্তি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. নাছিরের সঙ্গে আসামিদের পূর্বপরিচয়ের সূত্রে ঢাকায় জমি কেনাবেচার যৌথ ব্যবসা চলছিল। মৌখিক চুক্তি অনুযায়ী জমি বিক্রির পর লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ বাদী এবং বাকি ৫০ শতাংশ আসামিদের পাওয়ার কথা ছিল। এর ধারাবাহিকতায় আসামিরা বাদীকে জানান, উত্তরায় রাজউকের একটি আকর্ষণীয় ৫ কাঠার প্লট রয়েছে, যা ৫ থেকে ৬ কোটি টাকায় কিনে পরবর্তীতে ৯ থেকে ১০ কোটি টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। আসামিদের প্ররোচনায় বাদী ২০২৩ সালের ১ আগস্ট উত্তরায় ওই প্লট পরিদর্শন করে বিনিয়োগে সম্মত হন। পরবর্তীতে জমি বায়না ও রেজিস্ট্রির কথা বলে বিভিন্ন দফায় পে-অর্ডার ও নগদের মাধ্যমে বাদীর কাছ থেকে মোট ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সিটি ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকের বিভিন্ন পে-অর্ডারের মাধ্যমে আসামি রাফিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রবিউল আলম এবং ৩ নম্বর আসামি মুন্সী মঞ্জুর-ই-এলাহীর অনুকূলে কয়েক কোটি টাকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি রফিকুল ইসলাম, মো. আনিছুর রহমান মিঞা হাসচিব, হাসনা হেনা ও আসিফ হাসান তুলিপসহ চক্রের অন্য সদস্যরাও বাদীর কাছ থেকে দফায় দফায় নগদ টাকা নেন। টাকা নেওয়ার পর থেকেই জমি বুঝিয়ে না দিয়ে আসামিরা কালক্ষেপণ শুরু করেন। একপর্যায়ে বাদীর ফোন ধরা বন্ধ করে তারা উত্তরার ১৬ নম্বর সেক্টরের অফিস তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর আদালতে সিআর মামলা করেন। ওই দিন আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সিআইডি ঘটনার সত্যতা পেয়ে চলতি বছরের ৩০ জুন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
এদিকে মঞ্জুরুল আলমের কঠোর বিচার চেয়ে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগীরা। মানববন্ধনে বক্তারা সংঘবদ্ধ এই প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


