ডেঙ্গুমুক্ত ঢাকা উত্তর ও দখলমুক্ত ফুটপাত জনগণের হাতে তুলে দেওয়া হবে: ডিএনসিসি প্রশাসক

ডেঙ্গুমুক্ত ঢাকা উত্তর ও দখলমুক্ত ফুটপাত জনগণের হাতে তুলে দেওয়া হবে: ডিএনসিসি প্রশাসক

নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গুমুক্ত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং দখলমুক্ত ফুটপাত জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

বিজ্ঞাপন

শনিবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংস ও প্রতিরোধে ‘বিশেষ পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন।

প্রশাসক বলেন, আমরা গত তিন মাস ধরেই ডেঙ্গুমুক্ত ঢাকা উত্তর গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। মশার লার্ভা ধ্বংসে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী তিন মাসের মধ্যে ডিএনসিসি এলাকাকে পুরোপুরি ডেঙ্গুমুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে উল্লেখ করে তিনি জানান, নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে একটি ‘খোলা চিঠি’ লেখা হয়েছে, যা স্থানীয় প্রতিনিধি ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জনগণের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। সিটি কর্পোরেশনের এক পক্ষে ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি এ কাজে নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

মেট্রোরেলের পিলারে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক ব্যক্তির পোস্টার-লিফলেট দেখে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, নগরের সৌন্দর্য রক্ষায় যা যা করণীয়, আমরা তাই করব। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মেট্রোরেলের সব পিলারের গায়ে লাগানাো অবৈধ পোস্টার নিজ দায়িত্বে অপসারণের নির্দেশ দেন তিনি। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি জানান।

ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে প্রশাসক বলেন, ফুটপাত জনগণের অধিকার এবং ফুটপাত দিয়ে নিরাপদে চলাচল করাটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে যারা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করছেন, তাদের এর আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা আমলে নেননি।” হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, এখন আর কোনো নোটিশ নয়, যেখানেই ফুটপাত দখল করা হবে, সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তা উচ্ছেদ করা হবে। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

অনুষ্ঠানের পর মেট্রোরেলের নিচে দোকানদারদের ময়লা ফেলার জন্য বিশেষ ডাস্টবিন উদ্বোধন করা হয় এবং সবাইকে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অনুরোধ জানানো হয়। পরে প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালি শেষে মিরপুর-১০ ফলপট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরসহ ডিএনসিসির বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন