ব্যতিক্রমী আয়োজনে জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নববর্ষ উৎসব

স্টাফ রিপোর্টার

ব্যতিক্রমী আয়োজনে জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নববর্ষ উৎসব
জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পহেলা বৈশাখ উদযাপন। ছবি: আমার দেশ

রাজধানী ঢাকায় ‘জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’-এর আয়োজনে ব্যতিক্রমী ধারায় দিনব্যাপী ‘বাংলা নববর্ষ উৎসব ১৪৩৩’ উদযাপিত হয়েছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আকিজ ভেঞ্চারের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচির শুরুতে সকাল ১০টার পর রাজধানীর মুক্তাঙ্গন থেকে শিল্পকলা একাডেমি পর্যন্ত ‘বাংলা নবযাত্রা ১৪৩৩’ নামে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।

এতে মসজিদের সুউচ্চ মিনার, পর্দাঢাকা পালকি, জায়নামাজ, হারিকেন, টুপি, দোয়াত-কলম, কোদাল, কুপি বাতি, কৃষকের মাথাল ও মইসহ দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা আকর্ষণীয় উপাদান প্রদর্শন করা হয়। বহন করা হয় বিভিন্ন স্লোগানসম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন।

বিজ্ঞাপন

দুপুর ১২টার পর রাজধানীর বিজয়নগর সড়ক প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী বাঙালি মেজবান। এ আয়োজনে ভাত, গরুর মাংস, দেশীয় শাক-সবজি, মিষ্টান্ন ও বাহারি পান পরিবেশন করা হয়।

বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। লোকজ আদলে তৈরি আকর্ষণীয় মঞ্চ থেকে পরিবেশিত হতে থাকে পবিত্র কুরআনের সুমধুর তেলাওয়াত, হামদ-নাতসহ বিশ্বাস ও ভক্তিমূলক সংগীত। পরিবেশিত হয় দেশাত্মবোধক ও মাটি-মানুষের গান। পাশাপাশি দেশীয় ঐতিহ্যের আদর্শ ও ইতিহাসভিত্তিক জারি, পুঁথি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়াসহ কবিতা আবৃত্তি এবং অতিথিদের সারগর্ভ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে একটি নান্দনিক বাংলা বর্ষপঞ্জিকা উন্মোচন করা হয়, যা বাঙালির হারিয়ে যাওয়া গৌরবকে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত বহন করে। দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি কবি মুহিব খান। তিনি তার বক্তৃতায় বলেন, ‘জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ সংস্কৃতির মূলধারায় পরিচালিত একটি জাতীয় সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। বাংলা নববর্ষ এই জাতির গৌরবজনক ঐতিহ্য ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এ নববর্ষ ঘিরে প্রচলিত বিজাতীয় অপসংস্কৃতি ও নানা কুসংস্কারের কালোছায়া দূর করে প্রকৃত দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চর্চা এবং বিকাশের লক্ষ্যে আমাদের এই দিনব্যাপী আয়োজন।

মুহিব খান আরও বলেন, এই দেশ ও জাতির প্রকৃত ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে বেমানান, ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, জোর করে চাপিয়ে দেওয়া কোনো কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়। নতুন প্রজন্ম এবং বিশ্বের কাছে আমাদের গৌরবজনক ঐতিহ্য ও বিশুদ্ধ সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্যই আমাদের এই বিস্তৃত প্রয়াস।

দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে আরও অংশগ্রহণ করেন জাসাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি রশিদ আহমদ ফেরদৌস, সহ-সভাপতি ড. কুতুব উদ্দিন বখতিয়ার, সহ-সভাপতি শাইখ উসমান গনি, সাধারণ সম্পাদক কাউসার আহমাদ সুহাইল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ হায়দার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন ওয়াদুদ, গাজী আনাস রওশন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ বদরুজ্জামান, অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠীসহ হাজারো সদস্য-সমর্থক এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন