‘খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার শিক্ষা ও অধ্যাত্মচেতনার সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনার রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বক্তারা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষা ও অধ্যাত্মচেতনার সমন্বয় ঘটিয়ে নতুন প্রজন্মকে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। এতে মহান শিক্ষাবিদ ও সুফি-সাধক খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার দর্শন অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ ও খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউট।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা কেবল একজন সফল শিক্ষা প্রশাসকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন উচ্চমার্গের আধ্যাত্মিক সাধক ও সমাজ সংস্কারক। অবিভক্ত বাংলায় পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে এবং সমাজে অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রসারে তার অবদান অবিস্মরণীয়। তার শিক্ষাভাবনা আধুনিক যুগেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।’ বক্তব্যে উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার অনবদ্য অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. মো. একরাম হোসেন। প্রবন্ধকার খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার শিক্ষা ও অধ্যাত্ম দর্শনের বিশ্লেষণ এবং সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা টেনে বলেন, বর্তমান প্রযুক্তির্নির্ভর ও চরম বস্তুবাদী সমাজে যেখানে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে, সেখানে তার সমন্বিত শিক্ষা ও অধ্যাত্ম ভাবনা সামাজিক অবক্ষয় রুখে দিতে দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করতে পারে।
খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ আমেরিকান মুসলিম এলায়েন্সের প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার শাইখ মুহাম্মদ সাইফুল আজম আজহারী। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা অবিভক্ত বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার সাধনের পাশাপাশি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চায় মুসলমানদের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। একই সঙ্গে আধ্যাত্মিক সাধনাকে তিনি সামাজিক কল্যাণের পথ হিসেবে দেখিয়ে গেছেন। খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) প্রতিষ্ঠিত আহ্ছানিয়া মিশন তার দর্শনের প্রাতিষ্ঠানিক সত্তা হিসেবে অধ্যাত্মচেতনার পরিচর্যা করে চলেছে।
ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুমিত আল রশিদের সভাপতিত্বে সেমিনারে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এ এফ এম এনামুল হক ও ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল হাদী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি এ এইচ এম মাহফুজুল হক, ইউনাইটেড গ্রুপের উপদেষ্টা আক্তার মাহমুদ রানা, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান প্রমুখ। সেমিনারের আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক ড. আবদুস সবুর খান সেমিনারে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীসহ সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার অধ্যাত্মচেতনায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


