বাকৃবির ২২ গবেষণায় হাওরাঞ্চলের ৯০৪ কৃষক উপকৃত

বাকৃবির ২২ গবেষণায় হাওরাঞ্চলের ৯০৪ কৃষক উপকৃত

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) তত্ত্বাবধানে হাওরাঞ্চলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, পরিবেশ ও জীবিকা নিয়ে পরিচালিত ২২টি গবেষণা প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যালোচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন বছর মেয়াদি এসব গবেষণায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি উৎপাদন, ফসল বহুমুখীকরণ, রোগ-পোকা ব্যবস্থাপনা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সরাসরি উপকৃত হয়েছেন ৯০৪ জন কৃষক।

বিজ্ঞাপন

সোমবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘ফাইনাল রিভিউ ওয়ার্কশপ অব সিটি ব্যাংকস এগ্রিকালচারাল রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন ইন দ্য অ্যাগ্রো-ইকোলজিক্যাল রিজিয়ন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করেছে সিটি ব্যাংক।

বাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঁঞার সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুস সালাম, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মো. মনোয়ার করিম খান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশরুর আরেফিন। স্বাগত বক্তব্য দেন বাউরেসের সাবেক সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাভিদুল হক ভূঁঞা।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাউরেসের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান। তিনি বলেন, হাওরাঞ্চলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, পরিবেশ ও জীবিকার নানা সংকট মোকাবিলার উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দেশের হাওরবেষ্টিত সাত জেলায় ২২টি উপ-প্রকল্প পরিচালিত হয়। প্রকল্পটিতে সিটি ব্যাংক মোট চার কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে। ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির উদ্বোধনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। গবেষণায় বাকৃবির ২২ জন প্রধান গবেষকসহ মোট ৮১ জন গবেষক, ৩৬ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও চারজন পিএইচডি ফেলো অংশ নেন। গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে ২১টি কর্মশালা ও ১৩টি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে ৯০৪ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে নয়টি ইমপ্যাক্ট জার্নালে ৪৩টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমে ১২৪টি স্বল্পমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

অধ্যাপক ড. হাম্মাদুর রহমান বলেন, সিটি ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) বিনিয়োগের মাধ্যমে কৃষি গবেষণায় অর্থায়নের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও উদ্ভাবন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ, শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সরকারের মধ্যে সমন্বয়, আন্তর্জাতিক জ্ঞান বিনিময়, কৃষককেন্দ্রিক উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম ও বাজার সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গবেষণার ফলাফল, তথ্য-উপাত্ত ও প্রশিক্ষণসামগ্রী সংরক্ষণে একটি ডিজিটাল জ্ঞানভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, দেশের হাওরাঞ্চলের কৃষির উন্নয়নে বড় ধরনের অর্থায়ন করায় সিটি ব্যাংককে ধন্যবাদ। ২২টি গবেষণার ফলাফল থেকে জনসাধারণের জন্য সমস্যা ও তার সমাধানগুলো পত্রিকায় লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানাই। আমি বিশ্বাস করি গবেষণা এত সহজ নয়। কিন্তু বাকৃবির গ্র্যাজুয়েটরা তাঁদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশের খাদ্য উৎপাদন, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও কৃষির উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। খামারির কান্নাকে হাসিতে পরিণত করার জন্য সেই মানসিকতা দিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের তৈরি করি।’

দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ২২টি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা। পরে গবেষকদের মধ্যে স্মারক ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন