শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদার, টেকসই অর্থনীতি গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বানের মধ্য দিয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) শেষ হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী মেগা আয়োজন ‘ডিআইইউ সাসটেইনেবিলিটি উইক ২০২৬’।
বুধবার ‘সাসটেইনেবিলিটি ডে’ উদযাপনের মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। সমাপনী দিনে উচ্চপর্যায়ের পলিসি ডায়ালগ, বৈশ্বিক সাবজেক্ট র্যাংকিংয়ে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভাগীয় সম্মাননা প্রদান এবং গ্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটির নলেজ টাওয়ারের ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স হলে (আইসিএইচ) সকাল ৯টায় উদ্বোধনী অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সমাপনী দিনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালদ্বীপের মান্যবর হাইকমিশনার হিজ এক্সেলেন্সি শিউনীন রশীদ।
দিনের আয়োজনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় ‘সাসটেইনেবল ইকোনমির জন্য সরকারের প্রস্তুতি: থ্রি-আর (৩-আর) স্ট্র্যাটেজি এবং এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক প্রথম পলিসি ডায়ালগ। এতে বক্তারা বাংলাদেশে টেকসই অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য টেকসই উন্নয়নবিষয়ক জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা মনে করেন, পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও এলডিসি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ, উদ্ভাবনী এবং টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে সচেতন জনশক্তি গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এরপর ‘টেকসই উন্নয়নে শিল্প ও একাডেমিয়ার ভূমিকা: চ্যালেঞ্জ ও সমাধান’ শীর্ষক দ্বিতীয় পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিল্পখাতের বিশেষজ্ঞরা শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যকার ব্যবধান দূর করা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এ সময় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোডাক্ট কমার্শিয়ালাইজেশন কালচার ও পেটেন্ট কার্যক্রম সম্পর্কে শিল্পখাতের বিশেষজ্ঞদের অবহিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রয়োগভিত্তিক উদ্যোগগুলো সম্পর্কে জেনে বিশেষজ্ঞরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শিল্পখাতের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা সমাধানে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা। এ আলোচনা শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবনকে বাস্তবমুখী সমাধানে রূপান্তরের গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে।
পলিসি ডায়ালগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কিউএস (QS) ও টাইমস হায়ার এডুকেশন (THE) গ্লোবাল সাবজেক্ট র্যাংকিংয়ে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ডিআইইউর সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে বিশেষ বিভাগীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়। এই সম্মাননা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম, গবেষণা এবং বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়।
গ্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রিন্সিপাল এসডিজি কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. এস. এম. আব্দুল আউয়াল। বক্তব্যে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টেকসই উন্নয়নকেন্দ্রিক বিভিন্ন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির গুরুত্ব ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি ড্যাফোডিলের ‘সাসটেইনেবিলিটি উইক’ আয়োজনকে বাংলাদেশের মধ্যে একটি ‘ইউনিক বা অনন্য উদ্যোগ’ হিসেবে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে, বিশেষ করে সাসটেইনেবিলিটি র্যাংকিংয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্জনকে দেশের জন্য একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে প্রফেসর ড. এস. এম. আব্দুল আউয়াল বলেন, এসব উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও সামাজিক উদ্যোগকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্লোভাকিয়ার স্লোভাক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির লুসিয়া মিয়াডোকোভা।
সমাপনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও কর্মসূচির বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ। এ সময় সাসটেইনেবল প্রজেক্ট কম্পিটিশন, সোশ্যাল বিজনেস এক্সপোজার প্রোগ্রাম (এসবিইপি) এবং এসডিজি ইয়ুথ ডায়ালগের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সামাজিক ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং টেকসই উন্নয়নবিষয়ক সচেতনতা ও অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হয়।
এ ছাড়া সপ্তাহব্যাপী আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ক্লাবগুলোকে টোকেন অব অ্যাপ্রিসিয়েশন প্রদান করা হয়। এর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী ‘ডিআইইউ সাসটেইনেবিলিটি উইক ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে সহযোগিতা জোরদার, টেকসই অর্থনীতির জন্য দক্ষ জনবল তৈরি, উদ্ভাবনকে বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগানো এবং এসডিজি বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে শেষ হওয়া এ আয়োজন টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতার গুরুত্বকে নতুন করে তুলে ধরে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


