শতভাগ রাষ্ট্র মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক পিএলসি.-এর ৩৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যাংকের শতভাগ শেয়ারহোল্ডার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু মো. মোফাজ্জেল উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানান এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সভায় ব্যাংকের ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়।
সভায় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য মুন্সি আব্দুল আহাদ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদ, মো. মতিউর রহমান, এফসিএ, এফসিএমএ, সরকারের অবসরপ্রাপ্ত গ্রেড-১ কর্মকর্তা ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল, অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ ব্যাংকার এস. এম. ইকবাল হোছাইন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বেসিক ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের পর্যবেক্ষক রূপ রতন পাইন, মহাব্যবস্থাপক ও কোম্পানি সচিব মো. হাসান ইমাম এবং ব্যাংকের অডিট ফার্ম কাজী জহির খান অ্যান্ড কোং-এর প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, বেসিক ব্যাংক এখন ক্রমশ ভালো করছে এবং লোকসানের পরিমাণ কমে আসছে। অব্যাহত প্রচেষ্টার মাধ্যমে লোকসান আরও কমিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের আমানতও বাড়ছে, যা ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
তিনি বলেন, সরকারি ব্যাংকের আমানতের দায়িত্ব সরকার নেবে—এমন নিশ্চয়তার কারণে মানুষের মধ্যে ব্যাংকটির প্রতি আস্থা ফিরে এসেছে। এর ফলে ঋণ-আমানত অনুপাত কমে এসেছে এবং এখন ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও বেড়েছে। তবে নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি।
বেসিক ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে নাজমা মোবারেক বলেন, ব্যাংকটি ভালো অবস্থানে ফিরে আসবে। তিনি পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার যৌথ প্রচেষ্টায় ব্যাংকের অবস্থার উন্নতির প্রশংসা করেন।
তিনি আরও বলেন, বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা দক্ষ এবং ব্যাংকের মানবসম্পদের মানও ভালো। বিভিন্ন সময়ে জিএম ও ডিএমডি পদে পদোন্নতির ভাইভা বোর্ডে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এ বিষয়ে আশাবাদী। তার বিশ্বাস, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সম্মিলিতভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে ঘুরে দাঁড়াতে ভূমিকা রাখতে ঋণের পরিস্থিতির উন্নয়নে সবাইকে আরও পারবেন।
ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণের পরিস্থিতির উন্নয়নে সবাইকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি নন-ইন্টারেস্ট ইনকাম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ই বর্তমানে ব্যাংকের মূল ফোকাস। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের আলোকে খেলাপি ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া জোরদার করার পাশাপাশি আইনি কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরামর্শ দেন তিনি।
একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সব নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন এবং কর্মক্ষেত্রে সুশাসন বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ সময় অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান।
সভায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদও ব্যাংকের নন-ইন্টারেস্ট ইনকাম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বেসিক ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের পর্যবেক্ষক রূপ রতন পাইন বলেন, বেসিক ব্যাংকের সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি আশাবাদী।
সভায় ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নয়ন, খেলাপি ঋণ আদায়, আমানত বৃদ্ধি, নতুন ঋণ বিতরণে সতর্কতা এবং নন-ইন্টারেস্ট ইনকাম বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


