সরকারি ক্রয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যকে অগ্রাধিকার দিতে বিপিপিএর পরামর্শ সভা

সরকারি ক্রয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যকে অগ্রাধিকার দিতে বিপিপিএর পরামর্শ সভা

সরকারি ক্রয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যকে অগ্রাধিকার প্রদানের বিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)। এ উপলক্ষে শনিবার বিপিপিএর সম্মেলনকক্ষে একটি পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি জারি করা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ২৫ক ধারার আলোকে এ বিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশের ২৫ক ধারায় বর্তমান সরকারের ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি ক্রয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যকে অগ্রাধিকার প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।

বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও সরকারের সচিব আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান, এনডিসি, সভায় সভাপতিত্ব করেন। এর আগে এ বিষয়ে বৃহৎ ক্রয়কারী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপের সঙ্গেও আলোচনা করেছে বিপিপিএ।

সভায় বিপিপিএর পরিচালক শাহ ইয়ামিন-উল ইসলাম পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ (পিপিআর, ২০২৫)-এর প্রস্তাবিত সংশোধনীর ওপর একটি উপস্থাপনা দেন। এতে সরকারি ক্রয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যকে অগ্রাধিকার প্রদানের বিধানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় তিনি আরও দুটি বিষয়ে অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করেন। বিষয় দুটি হলো—স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসারে উপযুক্ত সীমা নির্ধারণ এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনে (বিসিক) নিবন্ধিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে (এলটিএম) অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা প্রবর্তন।

পরামর্শ সভায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ, বিসিক এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের প্রায় ২০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা সরকারি ক্রয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যকে অগ্রাধিকার প্রদানের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তবে এ সুবিধার আওতাভুক্ত পণ্যের একটি সুস্পষ্ট তালিকা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।

অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের একটি সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণেরও পরামর্শ দেন। তাঁদের মতে, কোনো পণ্যকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে তাতে স্থানীয় উপাদানের ন্যূনতম অনুপাত বা শতকরা হার কত হতে হবে, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া প্রয়োজন।

এ বিধান কার্যকর করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা।

এ ছাড়া স্টার্টআপ চিহ্নিতকরণের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠিত মানদণ্ড বা সনদায়ন ব্যবস্থা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিপিপিএর কর্মকর্তারা জানতে চান। স্টার্টআপের সংজ্ঞা নির্ধারণ ও সেগুলো চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোনো মানদণ্ড থাকলে তা বিপিপিএকে অবহিত করার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

বিপিপিএ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিধিমালা শিগগিরই চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন