ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে যৌতুকের জন্য গৃহবধূ রেহানা বেগমকে গলা টিপে হত্যার দায়ে স্বামী মো. মিজানুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমানের আদালত এ রায় ঘোষণা করে। রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন বিচারক।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এরশাদ আলম জর্জ বলেন, এ মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ট্রাইব্যুনালে বিচার চলাকালীন ১০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(ক) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মিজানুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করে আদালত।
তিনি আরো বলেন, আদেশ অনুযায়ী আসামির মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মামলার রায় ও নথিপত্র অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিন রায়ের আগে আসামি মিজানকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তার উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায় শেষে সাজাসহ পরোয়ানা জারি করে আবারও তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ১১ বছর আগে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে ভিকটিম মোসা. রেহানা বেগমের বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই আসামিপক্ষ বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে যৌতুক দাবি করে আসছিল এবং প্রায়ই মারধর করত। ঘটনার কিছুদিন আগেও আসামির পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করা হয় এবং বাদীর বিকাশের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পাঠানো হলেও আসামির মারধর থামেনি।
সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার চর মীরেরবাগ এলাকায় ওহুদুজ্জামান শিকদারের ভাড়া বাসায় স্বামী মিজানুর রহমান যৌতুকের দাবিতে রেহানাকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
খবর পেয়ে নিহতের স্বজনেরা স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে গিয়ে সেখানে নিহতের লাশ দেখতে পান। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন মোসা. আকাশী বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


