দুই শিবির নেতাকে গুলির ঘটনায়

সাবেক এসপিসহ ৮ জনের বিচার শুরুর আদেশ ট্রাইব্যুনালের

স্টাফ রিপোর্টার

সাবেক এসপিসহ ৮ জনের বিচার শুরুর আদেশ ট্রাইব্যুনালের
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

যশোরের চৌগাছায় ২০১৬ সালে গ্রেপ্তারে পর বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলির মামলায় তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল ১। একইসঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য ১ জুন দিন ধার্য করা হয়।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১-এর সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেয়। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য হলেন বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

এ মামলায় তিন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন-চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক। আনিসুর ছাড়া পলাতক অপর আসামিরা হলেন-চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল। সকালে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এদিন শুরুতে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনীত অভিযোগ পড়ে শোনায় ট্রাইব্যুনাল। এরপর ট্রাইব্যুনাল বলে, আসামিদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবদেন খারিজ করা হলো।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের পক্ষে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। এদিন আসামিদের পক্ষে প্রথমে শুনানি করেন কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরল হকের আইনজীবী লিটন আহমেদ।

তিনি আরো বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ওয়াইড স্প্রেড, সিস্টেমেটিক ও টার্গেটেট অ্যাটাকের বিষয় রয়েছে এখানে এমন কিছু হয়নি। এটি পৃথক একটি ঘটনা। এজন্য আলাদা আইন রয়েছে। এখানে এ মামলা চলতে পারে না। এসআই আকিকুল ইসলামের আইনজীবীও একই গ্রাউন্ডে তার আসামির অব্যাহতির আবেদন জানান।

এরপর পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০০৯-২০১৫ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত অধিকারের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এ সময় টার্গেট করে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যা করা হতো। এমন অসংখ্য ঘটনা সারা দেশে ঘটেছে। যশোরের চৌগাছার ঘটনাটিও সিস্টেমেটিক অ্যাটাক ও ওয়াইড স্প্রেডের একটি অংশ। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান। পরে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট যশোরের চৌগাছায় রুহুল আমিন ও ইসরাফিল নামের দুই ছাত্রনেতাকে মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। কিন্তু আদালতে না তুলে পরপর দুই রাত তাদের নির্যাতন করা হয়।

এরপর অধস্তন পুলিশদের দিয়ে দুজনের পায়ে গুলি করান তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান। এছাড়া ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে মিথ্যা মামলায় চালান দেওয়া হয় দুজনকে। ভুক্তভোগীদের পায়ে বালু ঢোকানোর কারণে তাতে পচন ধরে। ফলে পরে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...