আগৈলঝাড়ায় দুই বিএনপি নেতাকে ক্রসফায়ার, পুলিশকে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার

আগৈলঝাড়ায় দুই বিএনপি নেতাকে ক্রসফায়ার, পুলিশকে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দুই বিএনপি নেতাকে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় এএসআই জসীম উদ্দিন ও এএসআই মাহবুলকে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছেন উজিরপুর থানার সেকেন্ড অফিসার আলী আহম্মেদ।

বিজ্ঞাপন

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ জবানবন্দিতে এ কথা বলেন আলী আহমেদ।

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দুই বিএনপি নেতাকে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বরিশালের সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ১৫তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।

জবানবন্দিতে পুলিশ কর্মকর্তা আলী আহমদ বলেন, আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৪৭ বছর। বর্তমানে বরিশাল জেলায় সিআইডিতে পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত আছি।

আমি উজিরপুর থানায় ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলাম।

২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টায় বরিশাল জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার এ কে এম এহসান উল্লাহ উজিরপুর থানায় এসে উজিরপুর থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ নুরুল ইসলামের সঙ্গে ১০-১৫ মিনিট কথা বলে চলে যান। এরপর অফিসার ইনচার্জ আমাকে ডেকে বলে থানার এএসআই জসীম উদ্দিন এবং এএসআই মাহবুল কে থানা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার জন্য সিসি দাও। তারা এসপি সাহেবের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিউটি করবে এবং তার তত্ত্বাবধানে থাকবে। আমি তখন ডিউটি অফিসার কে ডেকে অফিসার ইনচার্জ এর নির্দেশনা শুনাই এবং উক্ত এএসআই জসিম উদ্দিন ও এএসআই মাহবুল কে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিসি দিতে বলি। এরপর দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে আমি আমার বাসায় রেস্ট নিতে চলে যাই।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে টেলিভিশনের হেডলাইনে দেখি আমাদের পার্শ্ববর্তী আগৈলঝাড়া থানা এলাকায় টিপু হাওলাদার এবং কবির মোল্লা নামে ২ জন লোক পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

জবানবন্দিতে আলী বলেন, ওইদিন বিকাল বেলা আমি থানায় গেলে অফিসার ইনচার্জ আমাকে ডেকে এসআই মাহাবুল ও এএসআই জসীম কে আগামী ১০ দিন কোন ডিউটি না দেওয়ার জন্য বলেন। আমি তার নির্দেশ মোতাবেক তাদের ডিউটি দেওয়া থেকে বিরত রাখি।

এরপর অফিসার ও ফোর্সদের মাঝে কানাঘুষা চলতে থাকে আগৈলঝাড়া থানার ক্রসফায়ারের ঘটনা এএসআই মাহাবুল ও এএসআই জসীম ঘটিয়েছে। পরবর্তী সময়ে আমি জানতে পারি এসপি সাহেবের নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে এএসআই মাহাবুল ও এএসআই জসীম এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

১০ দিন পরে এএসআই মাহাবুল ও এএসআই জসিম থানায় আসে এবং তাদের কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল। তাদের চালচলনও অস্বাভাবিক ছিল।

এরপর এই দুই এএসআই অফিসার ইনচার্জকে বলেন, তাদের আরো ১০-১৫ দিন ছুটি প্রয়োজন। তখন অফিসার ইনচার্জ তাদেরকে আরো ১০-১৫ দিন ডিউটি থেকে বিরত রাখার জন্য আমাকে বলেন। আমি সেই আদেশ পালন করি।

তিনি বলেন, এএসআই মাহাবুল ও এএসআই জসীম অত্যন্ত বেপরোয়া ছিল। তাদেরকে ডিউটি দিলে এসপি ও এমপি হাসানাত আব্দুল্লাহর রেফারেন্স দিয়ে অন্যদিকে চলে যেত, ঠিকভাবে ডিউটি করত না। তাদের ভয়ে অন্য অফিসার ও ফোর্সরা ঠিকভাবে তাদের সাথে কথা বলত না। তারা সবসময় এসপি সাহেবের রেফারেন্সে চলত। তৎকালীন সরকারের আমলে বরিশাল জেলায় আরো ৪-৫ টি বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও সারা দেশে এরকমের অসংখ্য বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

আগৈলঝাড়ার ক্রসফায়ার সংঘটিত করার কারণে এএসআই মাহাবুল ও এএসআই জসীম কে ২৫,০০০ টাকা পুরস্কার হয়েছে বলে শুনেছি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন