কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারক-আইনজীবীকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জেলে আছি। কোনো আদালতের কোন বিচারক, কোন আইন কর্মকর্তা কি করছে তা, কারাগারের একটা লাল ও একটা সবুজ খাতায় সংরক্ষণ করে রাখছি।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে হাসানুল হক ইনু ও রাসেদ খান মেননকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর বংশাল থানার মোখলেছিন হত্যাচেষ্টা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফ হোসেন।
এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হারুন অর রশিদ আসামিদের গ্রেপ্তারের পক্ষে শুনানি করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করেন।
পরে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের বক্তব্য শেষে হাসানুল হক ইনু আদালতের অনুমতি নিয়ে বলেন, আজ আমাদেরকে দীর্ঘ চার ঘণ্টা ধরে সিএমএম কোর্টের হাজতখানায় রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ইনু আদালতকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আছি। এই আদালতের কোন বিচারক, কোন আইন কর্মকর্তা কি করছে, তা কারাগারে একটা লাল ও একটা সবুজ খাতায় সংরক্ষণ করে রাখছি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিচার ব্যবস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটা শাখা হিসেবে কাজ করছে।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ আসামি ইনুকে থামাতে বলেন। কিন্তু ইনু না থেমে রাষ্ট্রপক্ষের ওই আইনজীবীকে বলেন, আপনি চুপ করেন। এরপর ইনু ও আইনজীবীর বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী আসামির আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলে বিচারককে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেন। সে বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানান আদালত। এরপর মামলাটিতে ইনু ও মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হারুন অর রশিদ বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক এমপি আসামি হাসানুল হক ইনু আদালতসহ আমাদের সবাইকে হুমকি দিয়েছেন। আমাদের ভূমিকা কি তা নাকি তিনি কারাগারে বসে একটি লাল খাতা ও একটি সবুজ খাতায় লিখে রাখছেন। বিচার ব্যবস্থা নাকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি শাখায় পরিণত হয়েছে। আমি ইনুর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনেছি। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
এ মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মিছিলরত অবস্থায় চানখারপুল মোরের নাজিমউদ্দীন রোডে বাদি মো. মোখলেছিন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় গত বছরের ১ জানুয়ারি বাদী হয়ে মোখলেছিন একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোসহ কয়েক দফায় রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে কারাগারে আছেন তারা।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

