আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

স্ত্রীসহ সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদের ২১ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার

স্ত্রীসহ সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদের ২১ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুদক করা মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদের ১টি জিপ গাড়ি ও ৯ ব্যাংক হিসাব এবং তার স্ত্রী নূরান ফাতেমার ১২টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

সোমবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত এ আদেশ দেন। এদিন দুদকের পক্ষে পৃথক দুটি আবেদন করেন সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন।

দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

১২ ব্যাংক হিসাবে আছে, ১ কোটি ৬১ লাখ ২২ হাজার ৪৬১ টাকা। ৯ ব্যাংক হিসাবে আছে, ১ কোটি ৫৯ লাখ ৩৯ হাজার ৬৬৪ টাকা।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তিনি জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে সঙ্গীবিহীন ১ কোটি ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১৮ টাকার সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখেন। এছাড়া তার নিজ, যৌথ ও ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নামে ছয়টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৩৯ কোটি ৭৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৭ টাকা সন্দেহজনক লেনদেন করেন। এ কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং ১৯৬৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(১) (ঘ) ৩৫(১) (৪) ধারা লঙ্ঘন করায় ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। আসামি তার নামে অর্জিত স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর বা দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির নামে অর্জিত অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা আবশ্যক।

এ ছাড়া তার স্ত্রী নূরান ফাতেমা ৫ কোটি ৫২ লাখ ৭৬ হাজার ৯০ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের মালিকানা অর্জন ও ভোগদখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় এবং নূরান ফাতেমা তার নিজ, যৌথ এবং তার প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত ৫৬টি হিসাবে ৬৮৩ কোটি ১৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫৪ টাকা অস্বাভাবিক লেনদেন করেন। অপরদিকে, হাসান মাহমুদ প্রভাব খাটিয়ে তার স্ত্রী নূরান ফাতেমার নামে জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৫ কোটি ৫২ লাখ ৭৬ হাজার ৯০ টাকার সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেন। যা ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(১) (ঘ) ও ৫(১) (২) ধারা লঙ্ঘন করায় ৫(২) ধারায়, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব অপরাধে তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে দুদক। আসামি তার নামে অর্জিত স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর বা দলিল সম্পাদন বা অন্য কোন পন্থায় মালিকানা পরিবর্তন বা হস্তান্তর সম্ভবনা রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির নামে অর্জিত স্থাবর সম্পদ এবং অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...