রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার আলোচিত আসামি শাহীনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২ মার্চ) চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত তার এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে দুপুরে শাহীনকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে রিমান্ডে নেয়ার ওই আদেশ দেন আদালত।
এর আগে, রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের কাটা হাত, পা, মাথাসহ দেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে দুই হাতের আঙুলের ছাপ নিয়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তার নাম ওবায়দুল্লাহ। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের রুমমেট শাহীনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
গতকাল রোববার এ নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে করেন মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদ। সেখানে তিনি জানান, অনৈতিক প্রস্তাব ও ঝগড়া-বিবাদের জেরে ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর লাশ খণ্ডিত করেন শাহীন। তবে নিহতের দেহের একটি অংশ এখনো উদ্ধার যায়নি। সেটি আমিনবাজার সালিপুর ব্রিজ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে শাহীন।
থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করা হয়। পরে রাত ৯টার পর বিভিন্ন স্থানে খণ্ডিত দেহাবশেষ ফেলে দেওয়া হয়। ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং শাহীন হিরাঝিল হোটেলে চাকরি করতেন।
তারা মতিঝিলের কবি জসীম উদ্দীন রোডের একটি ফ্ল্যাটে একসঙ্গে ভাড়া থাকতেন। রাতে সিগারেট ও খাবার আনা নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। পরে ঘুমানোর সময় কথা বলা নিয়ে বিরোধ বাধে। একপর্যায়ে ঝগড়ার মধ্যে শাহীন চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে। পরে লাশ খণ্ডিত করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয় সে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

