জুলাই বিপ্লবের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে রিকশা চালাতে বের হন ইসমাইল। ওই দিন রাজধানীর রামপুরায় ডেলটা কেয়ার হাসপাতালের সামনে পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে শহীদ হন তিনি। গুলিতে তার মাথা ছিন্নভিন্ন হয়ে মগজ বেরিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ শহীদ ইসমাইলের স্ত্রী লাকি বেগমের জবানবন্দিতে ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা উঠে আসে।
রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে ষোড়শ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।
জবানবন্দিতে লাকি বেগম বলেন, ‘আমার বর্তমান বয়স ৩৮ বছর। আমার স্বামী ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন। ১৯ জুলাই শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে আমার স্বামী অটোরিকশা চালানোর জন্য বাসা থেকে বের হন। মাগরিবের নামাজের সময় আমার ছেলের বন্ধু এসে বলে, তোমার বাবা ডেলটা কেয়ার হাসপাতালের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। সংবাদটি শোনার পর আমি ও আমার ছেলে অজ্ঞান হয়ে যাই। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে দেখতে পাই, আমাদের এক প্রতিবেশী ভ্যানে করে আমার স্বামীর লাশ বাসায় নিয়ে এসেছেন। তখন দেখতে পাই, তার মাথার খুলি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে এবং মগজ বেরিয়ে গেছে। তার মাথায় গুলি লেগেছিল, সমস্ত শরীর রক্তাক্ত ছিল। তখন তার মাথায় ব্যান্ডেজ করার জন্য বেটার লাইফ হাসপাতালে নিয়ে যাই। কারণ, ব্যান্ডেজ না করে তার লাশ আমরা নাড়াচাড়া করতে পারছিলাম না।’

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘বেটার লাইফ হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় আমার স্বামীর লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারছিলাম না। তখন আমার দেবর বাড়ি থেকে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে বেটার লাইফ হাসপাতালে আসেন। পরে আমি, আমার ছেলে ও নিকটাত্মীয়রা লাশ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হই। যাওয়ার পথে পুলিশ ও বিজিবি আমাদের নানাভাবে হেনস্তা করে। তারা অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখে। তখন আমরা তাদের বলি, আমার স্বামী দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এরপর তারা অ্যাম্বুলেন্স ছেড়ে দেয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘২০ জুলাই আমার স্বামীর লাশ গ্রামের বাড়িতে আমাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করি।’
শহীদের স্ত্রী জবানবন্দিতে বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে ফেসবুক, ইউটিউব ও খবরের মাধ্যমে জানতে পারি, পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে আমার স্বামী নিহত হয়েছেন। রাফাত, রেদোয়ান, রাশেদুল ও মশিউর ওই পুলিশ ও বিজিবি সদস্য, যাঁদের গুলিতে আমার স্বামী নিহত হয়েছেন।’
এ পর্যায়ে সাক্ষী কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


