ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ডিজিএফআই’র সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ ও তার পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার অপর দুই আসামি হলেন- শেখ মামুন খালেদের স্ত্রী নিগার সুলতানা ও তার শ্যালক শেখ আমিনুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার দুদক প্রধান কার্যালয়ে জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। দুদক জানায়, অনুসন্ধানে শেখ মামুন খালেদের নামে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৮৬ হাজার ৮৩৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ কোটি ৩০ লাখ ৮০ হাজার ৬৫৮ টাকা।

এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫৬৩ টাকা। ফলে তার নামে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়।

সূত্র জানায়, নিগার সুলতানার নামে ১ কোটি ৮ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। তার গ্রহণযোগ্য আয় ১ কোটি ২৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯১১ টাকা এবং পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৬৯ টাকা। ব্যয় বাদে সম্পদ অর্জনের জন্য তার সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪৯ লাখ ৭২ হাজার ৯৪২ টাকা। এ হিসাবে তার নামে ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮০৯ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়।

অপরদিকে, শেখ আমিনুর রহমানের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ৯ হাজার ১২৩ টাকা। তার গ্রহণযোগ্য আয় ৫ কোটি ৭৭ লাখ ৩৭ হাজার ৪৭৮ টাকা এবং পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ২ কোটি ৪২ লাখ ৪ হাজার ৬১৬ টাকা। ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ২৭ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৩ টাকা। ফলে তার নামে ৫ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়।

দুদকের অনুসন্ধানে নিগার সুলতানা ও শেখ আমিনুর রহমানের আয়কর নথিতে মৎস্য চাষ থেকে প্রদর্শিত যথাক্রমে ৪০ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩০ টাকা ও ৬ কোটি ৮ লাখ ১৪ হাজার ৮৮৪ টাকার আয় গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়নি। রেকর্ডপত্র যাচাই ও পরিদর্শনে এসব আয়ের ভিত্তি পাওয়া যায়নি। এছাড়া শেখ আমিনুর রহমানের পূর্ববর্তী সঞ্চয় হিসেবে প্রদর্শিত ১ কোটি ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৩৯০ টাকারও কোনো রেকর্ডপত্র পাওয়া যায়নি।

দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল বাদি হিসেবে তিনটি মামলা দায়ের করেন। তিনটি মামলাতেই দুদকের সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল মামলার বাদী হয়েছেন।

উল্লেখ্য, এক-এগারোর অন্যতম হোতা থেকে শেখ মামুন খালেদকে গত ২৫ মার্চ রাতে ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ২০০৮ সালের জুনে তিনি ব্রিগেডিয়ার চৌধুরী ফজলুল বারির স্থলাভিষিক্ত হয়ে পরিচালকের (কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর-সিআইবি) দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৪ সালে ছাত্র জনতার গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের মে মাসে দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে স্ত্রীসহ শেখ মামুন খালেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আদালত। তখন দুদক তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদ সংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...