জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর রামপুরায় আমির হোসেনকে গুলি ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে নতুন প্রমাণাদি দাখিলের রায় চার সপ্তাহ স্থগিতের আবেদন করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই আবেদন করা হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এই মামলার নতুন কিছু প্রমাণ হাতে এসেছে। আমার মনে হয়েছে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে সেগুলো দাখিল করা প্রয়োজন। এজন্য চার সপ্তাহ রায় স্থগিত চেয়ে নতুন অ্যাভিডেন্স দাখিলের আবেদন করেছি।
অন্যদিকে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। তিনি ছয় সপ্তাহ সময়ের আরজি জানান এবং মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের জামিন আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘আমার মক্কেল ১৫ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। তার একটি বাচ্চা রয়েছে। তিনি সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এজন্য তার জামিন আবেদন করছি।’
তখন ট্রাইব্যুনাল বলে, এই মুহূর্তে আসামির জামিন দেওয়া যাবে না। কারণ মামলাটি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরপর নতুন তথ্যপ্রমাণ দাখিলে প্রসিকিউশনকে পাঁচ সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য ৯ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য ৪ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছিল।
এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১৪ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন। গত বছরের ২৩ অক্টোবর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন গুলিবিদ্ধ আমির হোসেন। প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ৮ জানুয়ারি। এছাড়া আসামি চঞ্চল চন্দ্র নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। ১৩ জানুয়ারি তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই বছরের ৭ আগস্ট ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এ মামলায় আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার রয়েছেন। অপর চার আসামি পলাতক। হাবিবুর ছাড়া অপর আসামিরা হলেনÑ খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান ও সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

