২০২৫ সালে দেশজুড়ে সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান বিরোধী অভিযানে সারা দেশে মোট ১ হাজার ৯০৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার চোরাচালান পণ্য, অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার দায়ে এক বছরে ভারত ও মিয়ানমারের ৭ হাজার ৪৯২ জন গ্রেপ্তার করেছে বিজিবি।
সোমবার বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই বার্ষিক পরিসংখ্যান জানানো হয়।
বিজিবির তথ্যানুযায়ী, জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৬০ কেজি ৫৫৬ গ্রাম স্বর্ণ এবং ১৬৮ কেজি ২৪১ গ্রাম রৌপ্য। এছাড়া বিপুল পরিমাণ বস্ত্রসামগ্রী জব্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১ লাখ ৭১ হাজার ১৯০টি শাড়ি, ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৭৯টি থ্রিপিস ও চাদর এবং ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৮টি তৈরি পোশাক উল্লেখযোগ্য। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে ১১ লাখ ৬৫ হাজার কেজি চিনি, ৩ লাখ ৫ হাজার কেজি পেঁয়াজ এবং ২ লাখ ৩৫ হাজার কেজি জিরা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ২ কোটি ৭ লাখের বেশি আতশবাজি, ৬৮ লাখ কসমেটিক্স সামগ্রী এবং ১৭০৮টি বিভিন্ন প্রকার যানবাহন জব্দ করে বাহিনীটি।
অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার
সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি গত এক বছরে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেছে। জব্দকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে: ৬৪টি পিস্তল, ১০টি রাইফেল এবং ৩টি রিভলভার। ১৯টি হ্যান্ড গ্রেনেড এবং ৭৯টি হাত বোমা। ১,৫০৯টি গোলাবারুদ এবং ৭৩,১০০টি সীসার গুলি। ২০ কেজি গান পাউডার এবং ৪টি মাইন।
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি গত বছর ১ কোটি ৪৭ লাখ ১৪ হাজার পিসের বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে। এছাড়া ১০ কেজি ৪০৮ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ১ লাখ ৩৩ হাজার বোতল ফেনসিডিল, ৫৫ কেজি হেরোইন এবং ১৩ কেজি কোকেন উদ্ধার করা হয়েছে। ১ কোটির বেশি বিভিন্ন প্রকার অবৈধ ঔষধ এবং বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ারও এই তালিকায় রয়েছে।
চোরাচালান ও মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালে ২,৩৩৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৪,২৩৮ জন বাংলাদেশি, ১২৪ জন ভারতীয় এবং ৭,৩৬৮ জন মিয়ানমার নাগরিককে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিজিবি জানায়, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা এবং চোরাচালান রোধে তাদের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযানিক তৎপরতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

