ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর জাল করে বিয়ের হলফনামা তৈরি, আইনজীবীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর জাল করে বিয়ের হলফনামা তৈরি, আইনজীবীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে ভুয়া বিয়ের হলফনামা (কোর্ট ম্যারেজ) তৈরি এবং পরবর্তীতে সেই ম্যাজিস্ট্রেটকেই আসামি করে মামলা দায়েরের চেষ্টার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে বরগুনার একজন আইনজীবীসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা (এজাহার) দায়ের করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের নেজারত বিভাগের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. খালিদ হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন—বরগুনার পোটকাখালী গ্রামের মৃত মজিদ হাওলাদারের ছেলে মো. নয়ন (৩৭), চালিতাবুনিয়া গ্রামের ফরিদ সিকদারের স্ত্রী মোছা. রিমা এবং জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. তরিকুল ইসলাম (তরণ) ফরাজী। এছাড়া মামলায় আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়

রোববার, ১৯ জুলাই, আনুমানিক বিকেল ৩টায় ১১ নম্বর আদালতের বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম মো. নয়ন ও ফাহিমা ইসলাম রিয়া নামের একটি বিয়ের হলফনামা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আদালতের মূল বালাম ও রেজিস্টার খাতা পরীক্ষা করে দেখতে পান যে, উল্লিখিত স্মারক নম্বরের বিপরীতে ‘মো. নয়ন ও ফাহিমা ইসলাম রিয়া’ নামের কোনো বিয়ের হলফনামার এন্ট্রি নেই। মূলত জালিয়াতির উদ্দেশ্যে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এই ভুয়া অ্যাফিডেভিট তৈরি করা হয়েছিল।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, চক্রটি ১১ নম্বর আদালতের বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করে ওই হলফনামায় কাউন্টার সাইন বসিয়েছিল। মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী কাজি ছাড়া কোনো নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এ ধরনের বিয়ে সম্পন্ন করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

ম্যাজিস্ট্রেটকে আসামি করার চেষ্টা

তদন্তে আরও উঠে আসে যে, এই জাল ও ভুয়া হলফনামাটি ব্যবহার করে আসামিরা বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম ও অন্যান্যদের আসামি করে বরগুনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আমলি আদালত (বামনা)-এ একটি মিথ্যা সিআর মামলা (মামলা নং-১৪৪/২৬) দায়েরের চেষ্টা চালায়। তবে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসাইন (সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) জালিয়াতি ও অসঙ্গতি বুঝতে পেরে ২০৩ ধারা অনুযায়ী মামলাটি তাৎক্ষণিক খারিজ করে দেন।

থানায় মামলা দায়ের

আদালতের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে একটি সুসংগঠিত জালিয়াত চক্র গড়ে তুলেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে আদালতের নাম, ভুয়া সিল এবং বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল।

এই অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির ৪৬৫/৪৬৬/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন