জুলাই গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ছেলে ও তার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অষ্টম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন আব্দুল নাসির উদ্দিন।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দেন তিনি।
জবানবন্দিতে আব্দুল নাসির উদ্দিন বলেন, আমার বয়স ২০ বছর। বর্তমানে আমি নরসিংদী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের ৭ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে আমি আন্দোলনে অংশগ্রহণ করি। ১৮ জুলাই থেকে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়। ৫ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে আমি ও আমার বন্ধু সামিদসহ ৪-৫ জন মিলে লং মার্চ টু ঢাকার উদ্দেশ্যে টঙ্গীর চেরাগ আলী থেকে বের হই। ওইদিন দুপুর ২টার দিকে উত্তরা বিএনএস এলাকায় পৌঁছালে উত্তরা পূর্ব থানার দিক থেকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। তখন আমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে সামিদকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
জবানবন্দিতে নাসির বলেন, ওইদিন আনুমানিক বিকাল ৫টার দিকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল দিয়ে বলে উত্তরা কুয়েতমৈত্রী হাসপাতালে যেতে—সেখানে সামিদ আছে। হাসপাতালে যাওয়ার পর অনেক খোঁজাখুঁজির পর সামিদকে আইসিইউতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় খুঁজে পাই। সামিদের কপালে গুলি লেগে মাথার পেছন দিক দিয়ে বের হয়ে যায়। সামিদ রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল। তখন আমি সামিদের বাবাকে কল করি। তিনি উত্তরায় বিজয় মিছিলে ছিলেন। কিছুক্ষণ পরে সামিদের বাবা হাসপাতালে এসে দেখে, সামিদ মৃত। ওইদিন আনুমানিক রাত ৮টার দিকে সামিদের লাশ হাসপাতাল থেকে গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে নিয়ে দাফন করা হয়।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট সকালে ইন্টারনেট ছিল না। ওই দিন শেখ হাসিনার নির্দেশে উত্তরা এলাকায় গুলি করে আনুমানিক ৩০-৪০ জন মানুষকে হত্যা করা হয় এবং অসংখ্য মানুষকে গুরুতর আহত করা হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সামিদ, সানজিদ, জসিম ও সোহেল। শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ইন্টারনেট বন্ধ করে দেন। জুলাই মাসের বিভিন্ন সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে। যাতে দেশে হত্যাকাণ্ড এবং গুমের ঘটনা বিশ্ববাসী জানতে না পারে, আন্দোলনকারীরা যাতে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে না পারে—এজন্য ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


