পুলিশ কর্মকর্তা মনোরঞ্জনের জবানবন্দি

পুলিশ সুপার বললেন, রাতে অভিযান আছে ক্রসফায়ার দিতে হবে

পুলিশ সুপার বললেন, রাতে অভিযান আছে ক্রসফায়ার দিতে হবে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দুজনকে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা মনরঞ্জন মিস্ত্রী।

হত্যাকাণ্ডের শিকার দুজন হলেন- আগৈলঝাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার ও উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ জবানবন্দি দেন তিনি।

জবানবন্দিতে মনরঞ্জন বলেন, আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৫২ বৎসর। বর্তমানে ফোর্ট, কুষ্টিয়ায় ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত আছি। ২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের জুনের প্রথম সাপ্তাহ পর্যন্ত জেলার আগৈলঝাড়া থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলাম। ২০১৫ সালের ২০ জুলাই বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার একেএম আহসান উল্যাহ আগৈলঝাড়া থানায় আসেন। এক পর্যায়ে পুলিশ সুপার স্যার আমাকে ডাকেন। তিনি বলেন, এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর একটি কাজ করে দিতে হবে। আমি স্যারকে বিষয়টি কি জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, রাতে অভিযান আছে, ক্রসফায়ার দিতে হবে। আমি অপারগতা প্রকাশ করলে স্যার আমাকে বলেন, শালা তুমি এমপি সাহেবের কথা শুনবা না, আর এখানে চাকরি করবা, দেখি তুমি কিভাবে প্রমোশন নেও, তোমার এসিআর শেষ করে দেব। কিছুক্ষণ পরে অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম আমাদের বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশ ডিউটি অফিসার ও সেন্ট্রি ব্যতীত থানায় কেউ থাকবে না, সবাই ডিউটিতে যাবে।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, এরপর অফিসার ইনচার্জ ও সেকেন্ড অফিসার এসআই অসীম কুমার মৌখিকভাবে ডিউটি বণ্টন করে আমাকে নিমতলা থেকে আগৈলঝাড়া ব্রিজের পূর্ব চাল পর্যন্ত হাইওয়েতে টহল ডিউটি করার নির্দেশ দেন। আমি রাত আনুমানিক দেড়টা থেকে পৌনে ২টার মধ্যে আগৈলঝাড়া ব্রিজের পূর্ব ঢালে আসি। সেখানে আমি এসআই অসীম ও এসআই মোস্তাফিজুর রহমানকে দেখতে পাই। আমি আগৈলঝাড়া ব্রিজে উঠার সময় পুলিশ সুপার স্যারের গাড়ি ও একটি মাইক্রোবাস আমাদের অতিক্রম করে চলে যায়। রাত আনুমানিক সোয়া ২টার দিকে আনুমানিক আধা কিলোমিটার দূরে পর পর গুলির শব্দ শুনতে পাই। ওই সময় আমার সঙ্গে থাক এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বিমর্ষ হয়ে পড়েন। তখন আমি, এসআই মোস্তাফিজুর রহমান এবং এসআই অসীম স্যার অনুমান করতে পারি যে, আমাদের বলা এস ফায়ারের বিষয়টি সংঘটিত হয়েছে।

জবানবন্দিতে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এরপর কিছুক্ষণ পরে পুলিশ সুপার স্যারের গাড়ি ও সাদা মাইক্রোবাসটি পূর্বদিকে চলে যায়। আনুমানিক আধা ঘণ্টা পরে আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আমাকে মোবাইলে অগৈলঝাড়া থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে বলেন এবং এবং জানান, সেখানে লাশ আছে, সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করতে হবে। আমি ফোর্সসহ সেখানে গিয়ে দেখি জরুরি বিভাগের বারান্দায় ট্রলিতে পাশাপাশি ২টি লাশ রাখা। সেখানে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবী চন্দসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও লোকজনদের উপস্থিত দেখতে পাই। সেখানে এসআই মোস্তাফিজুর রহমানও ছিলেন। রাত আনুমানিক ৩টা ৫ মিনিটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবী চন্দের উপস্থিতি ও নির্দেশে এবং উপস্থিত সাক্ষীদের মোকাবেলায় মৃত টিপু হাওলাদারের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করি। এরপর এসআই মোস্তাফিজুর মৃত কবির মোল্লার সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। অফিসার ইনচার্জ মনিরুলের কাছে জানতে পারে জানতে পারি, আমরা রাজি না হওয়ায় পাশের উজিরপুর থানা থেকে এএসআই জসিম ও এএসআই মাহাবুলকে দিয়ে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন