ট্রাইব্যুনালে মেডিকেল শিক্ষার্থী মুনীম

ফাইয়াজ গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা ফোনে তার বাবাকে জানিয়েছিলাম

ফাইয়াজ গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা ফোনে তার বাবাকে জানিয়েছিলাম

জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জনকে হত্যা ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছন মুগদা মেডিকেল শিক্ষার্থী ওয়াসিফ মুনীম।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দি দেন তিনি।

জবানবন্দিতে মুনীম বলেন, আমি মুগদা মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের একজন ছাত্র। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর আমি আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবো বলে সিদ্ধান্ত নিই। ১৮ জুলাই আনুমানিক সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার দিকে আমরা আসাদ গেটে জড়ো হই। সেখানে আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করি। কিছুক্ষণ পর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমাদেরকে ধাওয়া দেয় এবং পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। আমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাই। পুনরায় আমরা জড়ো হই, আবার পুলিশ এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আক্রমণ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে । এভাবে প্রায় দুই ঘণ্টা চলতে থাকে।

জবানবন্দিতে মেডিকেল শিক্ষার্থী মনীম বলেন, ওইদিন দুপুর ১টার দিকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মারণাস্ত্র নিয়ে আমাদেরকে ধাওয়া করতে থাকে। আমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের বিভিন্ন অলিতে গলিতে ঢুকে পড়ি। আমি ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের কোন এক গলির ফুটপাতে বসে পড়ি। তখন দেখতে পাই, ফাইয়াজকে চারজন ব্যক্তি তুলে নিয়ে আসছে । আমি দাঁড়িয়ে দেখি ফাইয়াজের বুকে গুলি লেগেছে এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রিক্সায় উঠানো হচ্ছে। ফাইয়াজ আমার সহপাঠি ছিলো। সেও আন্দোলনে গিয়েছিলো। আমি ফাইয়াজকে দেখার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য এ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে থাকি এবং একটি এ্যাম্বুলেন্স পাওয়ার পর তাকে এ্যাম্বুলেন্সে উঠাই। হাসপাতালে নেওয়ার পর ইমার্জেন্সি থেকে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। আইসিইউতে নেওয়ার পর ফাইয়াজের কাছ থেকে তার আইডি কার্ড পেয়ে আমাকে দেওয়া হয়। আমি আইডি কার্ড থেকে তার বাবার ফোন নাম্বার পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে কল করে ফাইয়াজের গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা জানাই। পরে ফারহারের মামা-মামি হাসপাতালে আসেন। আমি তখন বাসায় চলে যাই। পরবর্তীতে জানতে পারি, ফাইয়াজ শহীদ হয়েছেন।

তিনি বলেন, পরে আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ও পত্রপত্রিকা খবরে জানতে পারি শেখ ফজলে নূর তাপস ও জাহাঙ্গীর কবির নানকের নির্দেশে আওয়ামী সন্ত্রাসী শেখ বজলুর রহমান, সেন্টু, আজিজুল হক, যুবলীগের আহাদ হোসেন সোহাগ, ফজলে রাব্বী, ছাত্রলীগের রিয়াজ মাহমুদ হৃদয়, সাজ্জাদ হোসেন এই নির্মম হামলা চালায়। ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ও বিপ্লব কুমার কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই ঘটনা ঘটে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন