দেড় দশক আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে খুনের দায়ে স্বামী সায়েদ আহমেদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (২৬ এপ্রিল) ঢাকার চার নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাশেদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামি সায়েদকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত। একই সাথে আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভিকটিমের ছেলেকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে আসামি সায়েদকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ২৫ জুন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সায়েদ আহমেদ ও রেহানা বেগম। বিয়ের পর থেকেই সায়েদ যৌতুকের টাকা এবং রেহানার নামে থাকা বাড়ি লিখে দিতে মারধর করতো। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রেহানার মা রেজিয়া বেগম মেয়ের নামে কামরাঙ্গীরচরে কিনে দেওয়া বাড়িতে যান। অনেক সময় ডাকাডাকির পর সায়েদ দরজা খুলে দেয়। রেজিয়া বেগম সেখানে সায়েদ ও তার ভাই শফি আহমেদকে দেখতে পান। রেহানাকে দেখতে পান, ছেলেকে নিয়ে শুয়ে আছে। তাকে জাগানোর জন্য গায়ে হাত দিলে দেখেন, ঠান্ডা এবং মুখে লাল লাল দাগ। শ্বাস নিচ্ছে না দেখে চিৎকার করে রেজিয়া। চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। তবে সায়েদ ও শফি তাতে বাধা দেন। সেখানে কুলসুমা নামে একজন রেজিয়াকে জানান, যৌতুক হিসেবে বাড়ি লিখে দিতে ঝগড়া করতো। ওই দিন সকাল থেকে তারা রেহানাকে মারধর করেছে। মেয়ের মৃত্যুর কথা শুনে জ্ঞান হারান রেজিয়া। জ্ঞান ফিরলে জানতে পারেন, রেহানাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সায়েদ ও শফি জানান, রেহানা স্ট্রোক করেছে। তাকে তাড়াহুড়ো করে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করে। রেজিয়া কামরাঙ্গীরচর থানায় যান মামলা করতে। তবে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা নেয়নি। পরে রেজিয়া ৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে সায়েদ ও শফির নামে মামলা করেন।
পরে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগের বিষয়ে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। রেহানার মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা যেতে পারে মর্মে মতামত দিয়ে ১৬ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন জমা দেয়। এ পর্যায়ে রেজিয়া এ বিষয়ে নারাজি দাখিল করলে আদালত মামলাটি সিআইডি পুলিশকে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়।
সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক লুৎফর রহমান মামলাটি তদন্ত করে সায়েদকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন। তবে শফির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাননি তিনি। এরপর সায়েদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক। মামলার বিচার চলাকালে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

