সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন অধস্তন আদালতের ৩ বিচারক

সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন অধস্তন আদালতের ৩ বিচারক

গণঅভ্যুত্থানের পর প্রাণ রক্ষায় সেনানিবাসের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিলেন অধস্তন আদালতের তিন বিচারকও। তারা হলেন- ময়মনসিংহের সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মমতাজ পারভীন, যিনি বর্তমানে গাজীপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে কর্মরত আছেন। বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কাজী মিজানুর রহমান, যিনি বর্তমানে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে চট্টগ্রামে কর্মরত আছেন। আরেকজন বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. আল আমিন, যিনি নাটোরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত আছেন।

বিজ্ঞাপন

মানবিক দায়বদ্ধতার কারণে সে সময় আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের জীবন রক্ষা করাই মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল বলে বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

আইএসপিআরের জানায়, জুলাই–আগস্ট ২০২৪–এর ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে বিগত সরকারের পতনের পর কতিপয় কুচক্রী মহলের তৎপরতায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়। ফলে সরকারি দপ্তর ও থানাগুলোতে হামলা, রাজনৈতিক নেতা–কর্মী–সমর্থকদের ওপর আক্রমণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, মব জাস্টিস, চুরি, ডাকাতিসহ বিবিধ বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। এ ধরনের সংবেদনশীল ও নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দেশের নাগরিকদের মনে নিরাপত্তাহীনতা জন্ম নেয়।

আরো বলা হয়, এমতাবস্থায় ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব সেনানিবাসে প্রাণ রক্ষার্থে কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার নাগরিকেরা আশ্রয় প্রার্থনা করেন। উদ্ভূত আকস্মিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সেনানিবাসে আশ্রয়প্রার্থীদের পরিচয় যাচাই–বাছাই করার চেয়ে তাদের জীবন রক্ষা করা প্রাধান্য পেয়েছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, উচ্চ আদালতের ২ জন বিচারপতি ও অধস্তন আদালতের ৩ জন বিচারক, ১৯ জন বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা, ৫১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাসহ বিবিধ ১২ জন ও ৫১ জন পরিবার পরিজনসহ (স্ত্রী ও শিশু) সর্বমোট ৬২৬ জনকে বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় প্রদান করা হয়েছিল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন