আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

মানবতারিরোধী অপরাধ

২৫ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল

স্টাফ রিপোর্টার

২৫ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

জুলাই বিপ্লবে হাসিনা সরকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সালমান এফ রহমানসহ শীর্ষস্থানীয় ২৫ জন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এই অভিযোগ জমা দেন সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ।

বিজ্ঞাপন

এরপর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। সালমান এফ রহমানসহ ২৫ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ২০০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পর্যালোচনা করে খুব শিগগিরই ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠানো হবে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জুলাই বিপ্লবের সময় ২০২৪ সালের ২২ জুলাই ইন্টারনেট শাটডাউন চলাকালে সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে একদল ব্যবসায়ী ঢাকার ওসমানী মিলনায়তনে একত্রিত হয়ে শেখ হাসিনাকে আন্দোলন দমনে সহায়তা ও সার্বিকভাবে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তাদের বক্তব্য থেকে ফ্যাসিস্ট অবৈধ সরকারের মসনদ টিকিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে ওই সভায় আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, সমস্যা থেকে উত্তরণে সবাইকে এক হতে হবে। বিএনপি-জামায়াত আগেও এমন করেছে, তখন যদি তাদের বিচার হতো, তাহলে আজকে এসব করার সাহস পেত না। আমি মাঝেমধ্যে বলি, কারফিউ আরো আগে দেওয়া উচিত ছিল। কারফিউ যদি আরো আগে দেওয়া হতো, আরো ভালো হতো। আমি জানি প্রধানমন্ত্রী এত কঠোর হতে চান না, তাও বাধ্য হয়েছেন। এই অবস্থায় ব্যবসায়ীরা অধৈর্য না হয়ে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’

আকবর সোবহান আরো বলেন, আমি চিন্তা করি গত ১৪ বছর আগে আমি কোথায় ছিলাম। আপনারাও চিন্তা করেন ১৪ বছর আগে কোথায় ছিলেন। আমি মনে করি, কারফিউ বা ইন্টারনেট শাটডাউনের কারণে আমাদের ব্যবসা আগামী ৭ দিন ১৫ দিন বা ১ মাস বন্ধ থাকলে আমাদের কিচ্ছু হবে না। কিন্তু আমাদের এই সন্ত্রাসী এই জঙ্গি বাহিনীকে ধ্বংস করতে হবে। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আছেন, আমাদের সকলের নেতৃত্ব দিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন কেউ কিছু করতে পারবে না। আমি জানি ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে আপনাদের কষ্ট হচ্ছে, আমারও কষ্ট হচ্ছে। ১৪ বছরে আমি ১৪ গুণ উপরে উঠে আসছি। সুতরাং এই কষ্টটা সবাই সহজভাবে নেন। আমাদের নেত্রীর প্রতি আমাদের বিশ্বাস আস্থা আছে এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এমনকি মৃত্যুর পরেও তার প্রতি আমাদের বিশ্বাস আস্থা থাকবে। তার এসব কথাবার্তা শুনে সভায় উপস্থিত সকলেই হাত তালি দিয়ে সম্মতি প্রদান করেন।

সভার এক পর্যায়ে মাহবুব আলম বলেন, আজ আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট কোন আবদার নিয়ে আসিনি। আপনি আমাদেরকে অনেক কিছুই দিয়েছেন, আজ আর কিছুই চাওয়ার নেই। আমরা টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ার ৩ কোটি ব্যবসায়ী একটা কথাই বলতে চাই, আমরা সবসময় আপনার সাথেই এখনো আছি সামনেও থাকব।

সভায় এস এম মান্নান কচি তার বক্তব্যে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আন্দোলনের নামে এভাবে তারা দেশের সম্পদ নষ্ট করতে পারে এটা ভাবতেই পারি না। মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে এভাবে ধ্বংস করেছে। ছাত্র আন্দোলনকে ঢাল করে স্বাধীনতাবিরোধী অশুভ চক্র বিএনপি জামাত সারা দেশের সন্ত্রাসীদের ঢাকায় এনে যে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যা করা। আজ আমরা আশ্বস্ত করতে চাই যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা আপনার পাশে আছি, জীবন দিয়ে হলেও আপনাকে রক্ষা করব।

সভায় নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, আজকের সমাবেশে উপস্থিত আছেন সর্বস্থরের

ব্যবসায়ী, সকল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডি। মাত্র ১ মিনিটের একটা কলে পুরো হল আজ ভর্তি হয়ে গেসে। এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যা করা। এটা একটা অরগানাইজড ক্রাইম, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর নির্ভর করলেই চলবে না আমাদের সবাই কে মিলে এটা প্রতিহত করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা আপনাকে আবারও প্রতিজ্ঞা করে যাচ্ছি, আমরা আপনার সাথে ছিলাম আছি এবং থাকব।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধ সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...