আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে

সাইদুর রহমান রুমী

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার (আইসিটি) কার্যক্রম বেগবান করতে সংস্থাটিকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বর্তমান প্রধান কোঅর্ডিনেটর অবসরপ্রাপ্ত ডিআইডি মো. মাজহারুল হককে।

যোগ দিচ্ছেন নতুন প্রধান আনসার উদ্দিন খান পাঠানসহ আটজন। ক্ষমতাচ্যুত পলাতক ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর তদন্তে ব্যাপক ধীরগতি এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে সংস্থার কার্যক্রম জোরদারে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের পর ১৪ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল ঘোষণা দেন, জুলাই-আগস্ট গণহত্যাসহ শেখ হাসিনার সময় সংগঠিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোর বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা হবে।

এরপর ৫ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে প্রধান করে গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগ। আর ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাজহারুল হককে প্রধান করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কোঅর্ডিনেটর করা হয় সাবেক পুলিশ সুপার শহিদুল্যাহ চৌধুরীকে। জুলাই গণহত্যাগুলোর মামলায় ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

জানা গেছে, সবমিলিয়ে বর্তমানে তদন্ত সংস্থাতে (আইসিটি) ২৮০ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। নতুন করে আরো চারজন নিয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু শুরু থেকেই তদন্ত সংস্থার বিরুদ্ধে কাজে ধীরগতি, আসামি গ্রেপ্তারে অনীহাসহ নানা ধরনের অভিযোগ জানিয়ে আসছে প্রসিকিউশন বিভাগ। যার কারণে অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ দফায় দফায় পরিবর্তন এবং নতুন তারিখ নির্ধারণে আবেদন করছে প্রসিকিউশন।

ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার ছয় মাসে চার শতাধিক অভিযোগ জমা পড়লেও মামলা হয়েছে মাত্র ২৩টি। এর মধ্যে একটি মামলারও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি আইসিটি। আর এসব মামলায় ১৪১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও গ্রেপ্তার হয়েছে ৫১ জন। তাদের আবার বেশির ভাগই হাসিনার পলায়নের পর ধরা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জুলাই-আগস্টের গণহত্যায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মামলাগুলোতে প্রথমে ১৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ছিল। কিন্তু ধার্য করা তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি আইসিটি। এটি বাড়িয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু এ তারিখেও তদন্ত প্রতিবেদন না পেয়ে আবার দুই মাস পিছিয়ে তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২০ এপ্রিল।

অথচ এসব মামলায় গত ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আর এসব মামলার অধিকাংশ তথ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ, ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে থাকার পরও তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হয়।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন নতুন তারিখ মঞ্জুর করেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল বারবার তারিখ মঞ্জুর করলেও আইসিটির কার্যক্রমে ব্যাপক অসন্তুষ্ট বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন বারবার পেছানোর পাশাপাশি আসামি গ্রেপ্তারেও তেমন অগ্রগতি নেই। অন্য মামলায় আগে গ্রেপ্তারদের ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। সবমিলিয়ে অনেক ক্ষেত্রে প্রসিকিউশন অনেক দূর এগিয়ে গেলেও আইসিটির কারণে সার্বিক কার্যক্রম পিছিয়ে পড়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্ত সংস্থা (আইসিটি) পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তটি আশা করছি ভালো কাজ দেবে। কারণ, আমরা প্রসিকিউশন অনেক বিষয়ে এগিয়ে থাকলেও সময়মতো যথাযথ সহযোগিতা পাচ্ছিলাম না।

আইসিটির প্রধান কোঅর্ডিনেটর মো. মাজহারুল হক বলেন, তদন্ত সংস্থার কাজ এগিয়ে নিতে চেষ্টা করছি। কিন্তু নানা ধরনের সীমাবদ্ধতায় কাজ এগিয়ে নেওয়া কষ্টকর ছিল। তবে সরকার আমাকে জনপ্রশাসনের অন্য শাখায় দায়িত্ব দিচ্ছে। তাই আইসিটি থেকে দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন