আওয়ামী লীগের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা আয়নাঘরে গুম ও নির্যাতনের মামলায় তিন সেনা কর্মকর্তার আইনজীবী হিসেবে লড়ছেন আজিজুর রহমান দুলু।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারপতির উদ্দেশে করা দুলুর এক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
এক আবেদনের পর বিচারপতির উদ্দেশে আইনজীবী দুলু বলেন, আমার কথা আপনারা আমার কথা রেকর্ড না করলেও কেয়ামতের মাঠে আল্লাহর ক্যামেরায় রেকর্ড থাকবে। তার এ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়।
ট্রাইব্যুনাল বলে, আপনার এ বক্তব্য অত্যন্ত আপত্তিকর। ট্রাইব্যুনালের বিচারকে আপনি হেলফেলা মনে করেন? ট্রাইব্যুনালে কিভাবে আচরণ করতে হয়, আপনার শিখে আসা উচিত। আপনাকে বের করে দেওয়া উচিত।
গত সোমবার গুমের এ মামলায় ফাঁসিরদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং সাবেক ও বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিন। এরপর তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার অবশিষ্ট জেরা শেষে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সাক্ষী নাজিমের জবানবন্দির আরও একটি অংশ যুক্ত করার (পুনঃজবানবন্দি) আবেদন করা হয়। তখন আইনজীবী দুলু আপত্তি জানায়। তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন জানান, পুনঃজবানবন্দি নিতে হলে প্রসিকিউশন যেন আগে ট্রাইব্যুনালে লিখিত আবেদন করে। তখন ট্রাইব্যুনাল বলে, লিখিত আবেদন করার প্রয়োজন নেই, আমরা চাইলে মৌখিক আবেদনেও অনুমুতি দিতে পারি। তখন দুলু বলেন, আমি যে এতে আপত্তি জানিয়েছি, একথাসহ জবানবন্দি রেকর্ড করা হোক। পরে ট্রাইব্যুনাল বলে, আপনি অযথা সময়ক্ষেপণ করছেন। বসুন এসবের প্রয়োজন নেই। এরপর সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। তা হলো- ‘২০১৬ সালের ২৫ জুন থেকে পাঁচ মাস আমি ডিপিএফআই-এর আয়না ঘরে বন্দী ছিলাম। সেখান থেকে র্যাব- ২ এ ৪০ দিন ছিলাম। এরপর র্যাব-১০ এ এক রাত ছিলাম। সর্বশেষ র্যাব-৭ থাকার পর তিনটি মামলা দিয়ে আমাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।’
জবানবন্দির রেকর্ডের পর দুলু আবার আবেদন জানান, যেন তার আপত্তিসহ পুনঃজবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে, একথা লেখা হয়। তখন ট্রাইব্যুনাল বলে, লাগবে না, প্রয়োজন নেই। পরে দুলু বলেন, আমার কথা আপনারা রেকর্ড না করলেও কেয়ামতের মাঠে আল্লাহর ক্যামেরায় রেকর্ড থাকবে। তার এই মন্তব্যে ট্রাইব্যুনাল তীব্র আপত্তি জানায়। বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ বলেন, আপনি ট্রাইব্যুনালকে খেলা পেয়েছেন? আপনি ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। আদালতে কিভাবে আচরণ করতে হয়, তা আপনার শিখে আসা উচিত। আপনাকে বের করে দেওয়া উচিত। আপনি আদালতের সঙ্গে বেয়াদুবি করছেন। এখানে বসে বসে কেলিয়ে কেলিয়ে হাসছেন, আপনার লজ্জা করে না? এরপর বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী বলেন, আপনি অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন- এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
উল্লেখ, আইনজীবী দুলু মেজর জেনারেল সারোয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার মাহবুবুর রহমান ও আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকীর পক্ষে লড়ছেন। এই তিন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। আজ তাদের আদালতে হাজির করা হয়। ১৩ আসামির মধ্যে শেখ হাসিনাসহ অপর দশ আসামি পলাতক রয়েছেন।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

