সাংবাদিক নেতা, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদকে এবার শাহবাগ থানার একটি মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে নিজ বাসার সামনে থেকে আটকের পর যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল, ঈদের আগে সেই মামলায় জামিনে মুক্ত হলে জেল গেট থেকে তাকে ফের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
লতিফ সিদ্দিকীসহ আওয়ামী ঘরানার বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়ে যে মামলায় জামিনে রয়েছেন, সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সাংবাদিক নেতা ও বিএনপি’র সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদের পরিবারের সদস্যরা। তারা জানান, ওই ঘটনার সঙ্গে শওকত মাহমুদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং মামলার এজাহারে তার নামও নেই।
নতুন মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও বিকৃতির। ‘মঞ্চ ৭১’ নামক একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শাহবাগ থানায় দায়ের করা সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, এ মামলায় শওকত মাহমুদকে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে শওকত মাহমুদকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শক মো. আখতার মোরশেদ তাকে এই গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
গ্রেপ্তার আবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। ওই বছরের ২৮ আগস্ট সকাল ১০টা ঘটিকায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির অডিটোরিয়ামে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কিন্তু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের কার্যক্রম পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, তারা প্রকৃতপক্ষে দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। মামলার এজাহার নামীয় ১৬ জন আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৭০/৮০ জন ব্যক্তি উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। রমনা বিভাগের গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামিরা ‘মঞ্চ ৭১’-এর ব্যানারে সমবেত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। আসামি শওকত মাহমুদ উল্লিখিত ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে এবং তিনি তার দলীয় লোকজনসহ একত্রিত হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক সভা করেছেন মর্মে জানা যায়। এ অবস্থায় মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে শওকত মাহমুদকে সূত্রে বর্ণিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্য গতবছরের ৫ অগাস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগনকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৮ আগস্ট সকাল ১০ টায় একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেগুনবাগিচাস্থ সকাল ১১ টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) তে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই এক দল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিতও করেন। হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে সেখান থপকে ১৬ জনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

