চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহশিক্ষিকা মরিয়ম বেগমকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ওই মামলায় গ্রেপ্তার গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার সুমি। কাঠের বাটাম দিয়ে আঘাত করে তিনি একাই মরিয়মকে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল ইসলাম বুধবার সন্ধ্যায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
বৃহস্পতিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ১৯ মে সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়ায় সুমির বাড়ি থেকে গৃহশিক্ষিকা মরিয়ম বেগমের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সুমাইয়া আক্তার সুমি, তার স্বামী মো. রুবেল, শ্বশুর আনোয়ার হোসেন ও দীপক সাহা নামে এক স্বর্ণকারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, সুমির সন্তানকে প্রাইভেট পড়াতেন মরিয়ম বেগম। তিনি ১৮ মে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে ছেলের ল্যাপটপ কেনার জন্য সুমির কাছে কিছু টাকা ধার চান। কিন্তু টাকা না থাকায় দিতে পারেননি সুমি। পরে মরিয়ম বেগম তার কানে থাকা দুটি স্বর্ণের দুল বিক্রির জন্য দেন সুমিকে। ওই দুল দুটি ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয় স্বর্ণকার দীপক সাহার কাছে। ওই টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ করেন সুমি। এ নিয়ে মরিয়ম ও সুমির মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে বাড়ি থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে মরিয়মকে আঘাত করেন সুমি। এসময় মরিয়ম বেগম চিৎকার করলে সুমি তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর একটি রেকসিনে জড়িয়ে মরিয়মের লাশ প্রথমে শয়নকক্ষের খাটের নিচে রাখা হয়। পরে লাশটিকে বস্তার মধ্যে ভরে ঘরের বাইরের একটি জায়গায় রাখেন। রাতে সুমি তার স্বামীকে ঘটনাটি জানান। অন্যদিকে স্বর্ণকার দীপক সাহাও সুমির কাছ থেকে দুল কেনার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত কাঠের বাটাম, মরিয়মের এক জোড়া কানের দুল ও দুল বিক্রির ৭ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করেছে।
নিহত মরিয়ম বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার উজ্জ্বলপাড়ার মোসাদ্দেক হোসেনের স্ত্রী। লাশ উদ্ধারের পর তার ছেলে মোবারক হোসেন বাদি হয়ে ওই দিনই (১৯ মে) সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

