আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে সালমান-আনিসুলের ফোনালাপ পরীক্ষার আবেদন খারিজ

আমার দেশ অনলাইন

বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে সালমান-আনিসুলের ফোনালাপ পরীক্ষার আবেদন খারিজ
সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। ফাইল ছবি

জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতাকে হত্যার লক্ষ্যে কারফিউ জারি ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের ফোনালাপের রেকর্ড পরীক্ষার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত ওই কল রেকর্ড বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা করার আবেদন করেছিল আসামিপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় আসামিপক্ষ থেকে অব্যহতি চেয়ে আবেদনের ওপর শুনানিকালে কল রেকর্ড পরীক্ষার আবেদনটি করা হয়েছিল। আদালত আবেদনটি নাকচ করে দিয়ে আগামী মঙ্গলবার আসামিদের অব্যাহতির আবেদনের ওপর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে কারফিউ দিয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যায় উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় রোববার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। আসামিদের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

শুনানির শুরুতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ট্রাইব্যুনালে করা আবেদনে বলেন, ‘আন্দোলন চলাকালীন কারফিউ জারি করে হত্যাকাণ্ডের জন্য সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক দুজনের যে ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে পেশ করা হয়েছে, সেটি পরীক্ষা করার জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে তাদের ভয়েস রেকর্ড করে ম্যাচিং করলে সঠিক সত্য বেরিয়ে আসবে।’

তবে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান গোলাম মূর্তজা মজুমদার জানান, আইনে এমন কোনো সুযোগ নেই এবং এই আবেদনটি খারিজ করে দেন।

এ সময় আনিসুল হকের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের জন্য গত ১০ ডিসেম্বরের আবেদনের বিষয়ে আদালতের আদেশ জানতে চান আইনজীবী। জবাবে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের জন্য আগে বার কাউন্সিল থেকে অনুমতি নিয়ে আসবেন। তারপর ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে।’

শুনানির একপর্যায়ে সালমান ও আনিসুলের আইনজীবী বলেন, ‘প্রসিকিউশন বিচারের দিকে যাচ্ছে, আর আমরা চাচ্ছি ন্যায়বিচার।’ তখন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শফিউল আলম মাহমুদ পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘যখন মামলাটির তদন্ত চলছিল বা ফর্মাল চার্জ দাখিল করেছিল তখন বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ দিতে উদ্যোগ কেন নেওয়া হয়নি? বিচার শুরুর হওয়ার আগে এখন কেন এসব বলছেন?’ এ সময় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আইন অনুযায়ীই বিচার প্রক্রিয়া চলবে।

পরে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান। তখন আসামিপক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক শুনানির জন্য আরো দুই দিন সময় চাইলে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, ‘কয়েকবার সময় দেওয়া হয়েছে, আর সময় দেওয়া হবে না। বিচার শুরু হোক। আপনাকে আমরা আর একদিন সময় দেব।’

আসামিপক্ষের এই সময় চাওয়ার বিরোধিতা করে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের আপত্তি আছে। আসামিপক্ষ বিভিন্ন সাবমিশন রেখে মামলাটি বিচারে বিলম্ব করছে। তাদের আগেও ১৩ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এদেশের মানুষ জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার চায়। অন্তর্বর্তী সরকারকে বিচার করার জন্যই ক্ষমতায় বসিয়েছে জনগণ। অথচ আসামিপক্ষ মামলাটি বিভিন্নভাবে মিসগাইড করছে।’

উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান গোলাম মুর্তাজা মজুমদার আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের শেষবারের মতো দুই দিন সময় দেওয়া হচ্ছে। ৬ জানুয়ারি শুনানি করবেন। আর বাড়তি সময় দেওয়া হবে না।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন