ধর্ম উপদেষ্টা ড. আফম খালিদ হোসাইন বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে নীতি নৈতিকতাকে পুরোপুরি ধ্বংসের নানা ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। নৈতিকতার শিক্ষা অর্জনের মধ্য দিয়েই কেবল অবৈধ সম্পদ অর্জনের চিন্তা দূর করা যায়। এজন্যই দেশে একটি আদর্শ শিক্ষা ব্যবস্থা থাকা জরুরি। নৈতিকতার শিক্ষায় বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (বিআইইউ) অগ্রণী ভূমিকা রাখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিআইইউ) স্প্রিং সেমিস্ট্রার-২০২৪, ফল সেমিস্ট্রার-২০২৪ ও স্প্রিং সেমিস্ট্রার-২০২৫-এর ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ধর্ম উপদেষ্টা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশনে অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান প্রফেসর সাইয়েদ কামালুদ্দীন আবদুল্লাহ জাফরী।
তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, লেখাপড়ায় তোমরা শতভাগ মনোযোগী হও। ছাত্রজীবনে যে যতবেশি পড়ুয়া, পরের জীবন ততবেশি সে সমৃদ্ধ। তারুণ্যের যে শক্তি জাতিকে পথ দেখায়, তোমরা সে অবস্থান করছো। জুলাই বিপ্লবে তারুণ্যের শক্তি বাংলাদেশ উপলব্ধি করেছে। গত ৫৪ বছরে আমরা বারবার পিছিয়ে গেছি।
তিনি বলেন, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলররা অনৈতিকভাবে শিক্ষক নিয়োগসহ নানা অপকর্ম করেছেন, যা সবার জানা রয়েছে। সেখান থেকে ফিরে আসতে হবে। দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে মেধাবীদের সুযোগ তৈরির চিন্তা করতে হবে।
প্রফেসর কামালুদ্দীন আবদুল্লাহ জাফরী বলেন, মানব শিশু জন্মগ্রহণ করেই সবকিছু শিখে না। তার জন্য প্রয়োজন হয় সঠিক শিক্ষার। বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ভর্তি হন তারা আমাদের কাছে শিশুর মতোই। তাদের সঠিক শিক্ষা প্রদান আমাদের মূল লক্ষ্য।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বলেন, আমাদের মূলনীতি একটাই- কল্যাণের কাজে সহযোগিতা করা এবং অন্যায় অপরাধমূলক কাজে বাধা দেওয়া।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান সাইয়্যেদ শহীদুল বারী, শাহ মখদুম ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. বিএম শামসুল হক।
উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য মো. মিজানুর রহমান, সাইয়েদ জারীর জাফরী, রেজিস্ট্রার ড. মো. সোহেল আল বেরুনী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর শের মোহাম্মাদ, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর সুলতান আহমদ, আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. গোলাম রসূল, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর এম মানসুরুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. আব্দুল মান্নান, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সাজ্জাদুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

