ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) গত বছরের সহিংস ঘটনার প্রকৃত অপরাধীদের তালিকা প্রণয়নের আশ্বাস দিয়ে গঠিত শিক্ষার্থীদের পাল্টা তদন্ত কমিটি ঘোষণার সাড়ে চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি।
কমিটির সদস্যদের অনাগ্রহ, ব্যস্ততা এবং অসহযোগিতার কারণে এ অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন একাধিক সদস্য। ফলে কমিটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
গত ১৭ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস)-এর নেতৃত্বে ৩৪ সদস্যের একটি পাল্টা তদন্ত কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ক্যাম্পাসে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করতে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রকাশিত ১২০ জনের তালিকার ‘ত্রুটি ও পক্ষপাতিত্ব’ দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিকল্প তালিকা প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এক মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে।
তবে ঘোষিত সময়সীমার কয়েকগুণ সময় অতিক্রান্ত হলেও এখনও কোনো খসড়া রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি। এ নিয়ে কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কমিটির প্রধান আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রেজওয়ান আহমেদ রিফাত বলেন, আমরা আপাতত ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। অধিকাংশ সদস্য নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকায় কাজ এগোয়নি। তবে নির্বাচনের পর আমরা আবার সক্রিয় হবো।
কমিটির আরেক সদস্য নাজিমুদ্দিন সাইফ বলেন, প্রাথমিক খসড়া আমরা করেছি, কিন্তু কিছু সদস্যের অনাগ্রহের কারণে তা পূর্ণাঙ্গ করা সম্ভব হয়নি। আরেক সদস্য সারদার নাদিম মাহমুদ শুভ জানান, ডাকসু নির্বাচনের পর আমরা দ্রুত তালিকা প্রকাশ করবো। প্রশাসনের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করার চেষ্টা করবো।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, যদি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, প্রমাণসহ নিয়ে আসতে হবে।
উল্লেখ্য, পাল্টা তদন্ত কমিটি গঠনের সময় রেজওয়ান আহমেদ রিফাত জানিয়েছিলেন, শ্বেতপত্র আকারে তালিকা প্রকাশ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সত্যটা তুলে ধরা হবে। এজন্য সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকদের কাছ থেকে গুগল ফরম, ফেসবুক ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে তথ্য–প্রমাণ সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা সে সময় এই উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেছিলেন, শিক্ষার্থীরা যদি প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে তবে তা প্রশাসনের তদন্তকেও সহায়তা করবে।
ঘোষিত সেই তদন্ত কমিটিতে ছিলেন- রেজওয়ান আহমেদ রিফাত, নাজিমুদ্দিন সাইফ, স্মৃতি আফরোজ সুমি, মিনহাজুল আলী ঈশান, নুরুল ইসলাম, নাহিদ, ঐতিহ্য আনোয়ার ওহী, রওনক জাহান, জাহেদ হোছাইন, রুহুল আমিন রবিন, আবু মিশাল, সর্দার নাদিম মাহমুদ শুভ, আরিফুর রহমান, আহমেদ তানভীর, মো. আরমান হোসেন, মোনতাকিম তালুকদার, মাহমুদ রিদওয়ান, বায়েজিদ হাসান, এ এ এম মোজাহিদ, মো. দেলোয়ার হোসেন, তাপসী রাবেয়া, রাকিব রহমান, মো. মুঈনুজ্জামান, মুসআব আব্দুল্লাহ খন্দকার, মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম, মো. পাভেল আহমদ, নাফিসা তাবাসসুম মিথিলা, পারভেজ গাজী, মো. রুবায়েত হাসান রিমন, ইমরান সাদমান, আবু উবাইদা আব্দুল্লাহ খন্দকার, মো. জহির রায়হান, মো. মারুফ হাসান, মো. তরিকুল ইসলাম এবং ওমর ফাইয়াজ তামিম।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

