রুয়েট শিক্ষার্থীদের বকেয়া হল ফি ৭২ লাখ টাকা, বিপাকে প্রশাসন

রুয়েট শিক্ষার্থীদের বকেয়া হল ফি ৭২ লাখ টাকা, বিপাকে প্রশাসন
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের হল ফি ও সংশ্লিষ্ট খাতে ৭২ লাখ টাকার বেশি বকেয়া জমেছে। বিপুল পরিমাণ বকেয়া আদায়ে হিমশিম খাচ্ছে হল প্রশাসন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুসহ বকেয়া আদায়ে একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন আবাসিক হলে জমে থাকা বকেয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে শেরেবাংলা একে ফজলুল হক হলে। এই হলের শিক্ষার্থীদের বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ টাকা। এছাড়া শহীদ লে. সেলিম হলে বকেয়া দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ টাকা। শহীদ আব্দুল হামিদ হলে ১১ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলে ১১ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে শহীদ শহিদুল ইসলাম হলে প্রায় তিন লাখ ৬৭ হাজার টাকা, ছাত্র হল-১-এ দুই লাখ ২০ হাজার টাকা, টিনশেড হলে গত তিন থেকে চার মাসে গড়ে দুই লাখ টাকা এবং ছাত্রী হল-২-এ প্রায় এক লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। ছাত্র হল-২ থেকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ছাত্রী হল-১-এ কোনো বকেয়া নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

হল প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত বেতন পরিশোধ করলেও একটি অংশ দীর্ঘ সময় ধরে হল ফি বকেয়া রেখে দিচ্ছেন। এ কারণে দিনদিন বকেয়ার পরিমাণ বাড়ছে। এতে হল পরিচালনার বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে রুয়েটের ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার আমার দেশকে বলেন, বকেয়া পরিশোধের জন্য ইতোমধ্যে সব হলে নোটিস দেওয়া হয়েছে। এরপর কিছু শিক্ষার্থী তাদের বকেয়া পরিশোধ করেছে। হলের নীতিমালা অনুযায়ী তিন মাসের বেশি বকেয়া রাখার সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবে ছয় মাসেরও বেশি সময়ের বকেয়া আমরা দেখতে পাচ্ছি।

তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি হলে বেতন বকেয়া থাকলে পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন সুবিধা বাতিলের বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদন হয়েছে। আগামী মাস থেকেই অনলাইন রেজিস্ট্রেশন, অনলাইন হল কুপন এবং সব ধরনের পেমেন্ট অনলাইনে চালু হবে। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বকেয়া রাখার সুযোগ থাকবে না বলে আশা করছি। তবে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে হল ফি পরিশোধ, কুপন সংগ্রহ এবং নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে বকেয়া আদায় অনেক সহজ হবে। একই সঙ্গে বকেয়াসংক্রান্ত তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এত দীর্ঘদিনের বকেয়া জমে থাকার প্রবণতা কমে আসবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থী তিন মাসের বেশি সময় হল ফি বকেয়া রাখলে তার আবাসিক সিট বাতিলের বিধান রয়েছে। তবে বাস্তবে দীর্ঘদিন এ বিধান কঠোরভাবে কার্যকর না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বেতন পরিশোধে উদাসীন হয়ে পড়েছে।

প্রশাসনের মতে, নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বকেয়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন