রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। গত বুধবার প্রকাশিত এ তালিকায় জায়গা হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষ এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের।
নির্বাচন কমিশন বলছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম তফসিল ঘোষণার আগে শেষ না হওয়া এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি তারা। চূড়ান্ত তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৪ হাজার ৮৯২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১৫ হাজার ১৫১ এবং ছাত্রী ৯ হাজার ৭৪১ জন।
তালিকা অনুযায়ী ছাত্র ভোটারদের মধ্যে শের-ই-বাংলা ফজলুল হক হলে ৮২৮ জন, শাহ মখদুম হলে এক হাজার ১৭০ জন, নওয়াব আব্দুল লতিফ হলে ৯৬০ জন, সৈয়দ আমীর আলী হলে এক হাজার ২৯ জন, শহীদ শামসুজ্জোহা হলে এক হাজার ৮৮ জন, শহীদ হবিবুর রহমান হলে দুই হাজার ৮৮ জন, মতিহার হলে এক হাজার ৫৮৩ জন, মাদার বখশ হলে এক হাজার ৫৯০ জন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে এক হাজার ৫৬১ জন, শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এক হাজার ৯৭১ জন এবং বিজয়-২৪ হলে এক হাজার ২৮৩ জন রয়েছেন।
এছাড়া ছাত্রী ভোটারদের মধ্যে মন্নুজান হলে দুই হাজার ৩৫ জন, রোকেয়া হলে এক হাজার ৮২২ জন, তাপসী রাবেয়া হলে এক হাজার ৪৭ জন, বেগম খালেদা জিয়া হলে এক হাজার ১৩৪ জন, রহমতুন্নেসা হলে এক হাজার ৫৫৫ জন এবং জুলাই-৩৬ হলে দুই হাজার ১৪৭ জন রয়েছেন।
রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় গত ২৮ জুলাই। এরপর ৬ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং গতকাল প্রকাশ করা হয় চূড়ান্ত তালিকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয় ১৩ আগস্ট আর প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয় ১৭ আগস্ট।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩২ জন বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের দাবিতে সরব হয়েছেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, প্রতিনিধিত্ব পেলে নিজেদের সমস্যাগুলো ছাত্র সংসদের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারবেন তারা।
নেপালি শিক্ষার্থী সুমিত শর্মা বলেন, রাকসু নির্বাচনে যদি আমাদের একজন প্রতিনিধি থাকত, তাহলে ডরমেটরির সুবিধা-অসুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের কথা বলার সুযোগ হতো।
আরেক নেপালি শিক্ষার্থী অর্চনা শাহ বলেন, আমরা রাকসুতে প্রতিনিধিত্ব চাই। এজন্য আমাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাকসুর অর্ডিন্যান্সে বিশেষ কোনো আইন নেই। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তারা জাতীয় পর্যায়ে যেমন ভোট দিতে পারে না, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে না। এটি মূলত নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত বিষয়।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে তারা ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেনি। ফলে তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে তাদের ভোটার করতে যেসব প্রক্রিয়া দরকার ছিল তা সম্পন্ন হয়নি। তাদের রোল, হল অ্যাটাচমেন্ট তৈরি হয়নি। এগুলো সম্পন্ন করতে গেলে নির্বাচন এক থেকে দুই মাস পিছিয়ে যেত। তবে রাকসু এখন থেকে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী নির্বাচনে তারা ভোটার হওয়ার সুযোগ পাবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

