দেশের কওমি মাদরাসাগুলোর সর্বোচ্চ সম্মিলিত বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে দেশের ছয়টি কওমি মাদরাসা বোর্ড ও তাদের অধিভুক্ত সব প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী সুরক্ষা কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কওমি মাদরাসায় শিক্ষার্থী নির্যাতন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সাম্প্রতিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শাসনের উদ্দেশ্য হবে শিক্ষার্থীর সংশোধন ও কল্যাণ, প্রতিশোধ নয়। কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকা রাগের অবস্থায় শাস্তি দিতে পারবেন না। সতর্কতা ও ভর্ৎসনার পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে অভিভাবককে জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তবে লাঠি, বেত বা অন্য কোনো উপকরণ দিয়ে প্রহার, মাথা-মুখ বা স্পর্শকাতর অঙ্গে আঘাত, রক্তপাত বা শরীরে দাগ সৃষ্টি হতে পারে এমন শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে গালমন্দ, অপমান, কটু ভাষা ও মানসিক নির্যাতনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রতিটি মাদরাসার সুরক্ষা কমিটিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে নির্যাতন বা হয়রানির অভিযোগ জানানো যাবে। অভিযোগ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে হবে। গুরুতর অভিযোগে তদন্ত চলাকালে অভিযুক্তকে দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুরক্ষা কমিটি নিষ্ক্রিয় থাকা বা অভিযোগের পর ব্যবস্থা না নিলে সংশ্লিষ্ট মাদরাসার ইলহাক স্থগিত বা বাতিল হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে নিয়মিত ইসলাহী মজলিস, তারবিয়াতি মজলিস ও অভিভাবক সমাবেশ আয়োজন এবং বোর্ড পর্যায়ে মনিটরিং সেল ও অভিযোগের হটলাইন চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আল-হাইআতুল উলয়া জানিয়েছে, অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধীকে কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ছয়টি কওমি মাদরাসা বোর্ড ও তাদের অধিভুক্ত সব প্রতিষ্ঠানকে অবিলম্বে নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


