আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

প্রধান শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন

মীরপুর গার্লস আইডিয়ালের বরখাস্ত শিক্ষক বিপাশার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

মীরপুর গার্লস আইডিয়ালের বরখাস্ত শিক্ষক বিপাশার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

রাজধানীর মীরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরী ইনস্টিটিউটের বরখাস্ত হওয়া সহকারী শিক্ষক বিপাশা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সহিংস আচরণ, রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে গত বছরের মে মাসে তাকে বরখাস্ত করা হলেও তিনি প্রধান শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার, বুলিং ও ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক জিনাত ফারহানা এসব অভিযোগ করেন। তিনি ওই শিক্ষকের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ সময় তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

তবে প্রধান শিক্ষকের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তা ভিত্তিহীন দাবি করেছেন, বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক বিপাশা। শিগগিরই তিনি এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মানহানিকর অভিযোগের প্রমান চাইবেন বলে জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পতিত আওয়ামী সরকারের সময়ে ২০১৫ সালে বিপাশা ইয়াসমিনকে সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূতভাবে এবং অনুমোদিত শিক্ষক-কর্মচারী প্যাটার্নের বাইরে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়ে সিনিয়র সচিব নজরুল ইসলামের স্ত্রীর পরিচয় ব্যবহার করে এবং এমপি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর প্রভাবে এই নিয়োগ কার্যকর করা হয়। পরবর্তীতে ইলিয়াস মোল্লাহ ও জাহাঙ্গীর কবির নানকের হস্তক্ষেপে তার চাকরি স্থায়ী করা হয়। চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।

প্রধান শিক্ষক বলেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অমান্য, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, দেরিতে উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে কর্তৃপক্ষকে চাপে রাখার প্রবণতা বিপাশার নিত্যদিনের আচরণে পরিণত হয়। একপর্যায়ে তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। এ বিষয়ে তিনটি তদন্তেই তার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এমনকি তার পক্ষে না থাকলে শিক্ষার্থীদের দিয়ে যৌন নির্যাতনের মামলা করাবে বলে হুমকি দিতে থাকেন, ফলে ১৪ জন পুরুষ শিক্ষক মিরপুর থানায় জিডি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ওই শিক্ষক ভোল পাল্টান। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহার করে তিনি একাধিকবার স্কুলে প্রবেশ করে শিক্ষকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং ১৯ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র হত্যার মিথ্যা মামলা করেন, এতে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মিরপুর-১০ সেনা ক্যাম্পের অফিসাররা তাকে একাধিকবার সতর্ক করেন।

তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরো অভিযোগ করা হয়, নিজের অনৈতিক কর্মকাণ্ড আড়াল করতে তিনি মাউশির কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে প্রধান শিক্ষকসহ একাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে একের পর এক অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি মাউশিকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় প্রধান শিক্ষকের সরকারি বেতন ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এ বিষয়ে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ওই আদেশ স্থগিত ঘোষণা করে।

প্রধান শিক্ষক জানান, শিক্ষক সমিতির শীর্ষ নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কথা বলে নানা প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করেন ওই শিক্ষক। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ ও নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সহকারী প্রধান শিক্ষক আহমিদউল্লা কাসেমী, প্রভাতি শাখার ইনচার্জ সুয়ারা সুলতানা, দিবা শাখার ইনচার্জ জেসমিন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য

এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বিপাশা ইয়াসমিন বলেন, প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতিতে বাধা হওয়ায় তিনি অ্যাডহক কমিটি দিয়ে বেআইনিভাবে আমাকে বরখাস্ত করেছেন। শিক্ষা বোর্ড থেকে আমাকে যোগদানের অনুমতি দিলেও তিনি দিচ্ছেন না। ডিআইএ তদন্তে তার দুর্নীতি ধরা পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমার আট মাসের বেতন দিতে বলেছে বোর্ড, কিন্তু প্রধান শিক্ষক দিচ্ছেন না। নতুন কমিটি এলে এ বিষয়ে আবেদন করবো। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তার প্রমাণ চাইবো। প্রমাণ না দিতে পারলে মানহানির জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন