রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ‘কিসের সাংবাদিক’ বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।
আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন- কালেরকন্ঠের মানজুর হোসেন মাহি, আগামীর সময়ের লিটন ইসলাম, ঢাকা ট্রিবিউনের শামসুদ্দৌজা নবাব, ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, নয়া দিগন্তের হারুন ইসলাম, মানবজমিনের আসাদুজ্জামান খান, ডেইলি অবজারভারের নাইমুর রহমান ইমন।
হামলায় ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত চোখে এবং মুখে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শাহবাগ থানার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে এই হামলা চালায়।
ভুক্তভোগীদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও কালেরকন্ঠ পত্রিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার মনজুর হোসেন মাহী জানান, ঘটনাস্থলে কয়েকজন সাংবাদিক ভিডিও ধারণ করতে গেলে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী তাদের বাধা দেন। পরে তিনি সেখানে গিয়ে নিজের পরিচয় দিলে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সফি ওবায়দুর রহমান সামিথ তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন এবং তেড়ে আসেন।
তিনি বলেন, “আমি পরিচয় দেওয়ার পরও তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা সংঘবদ্ধভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।”
এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অন্তত ১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
হামলায় জড়িতদের মধ্যে হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু জ্বার গিফারী ইফাত, সদস্য সচিব মনসুর রাফি, শহীদুল্লাহ হলের সদস্য সচিব জুনায়েদ আবরার, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের নেতা সাকিব বিশ্বাস ও সাজ্জাদ খান, সূর্যসেন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন প্রান্ত, জিয়াউর রহমান হলের কারিব চৌধুরী, কবি জসিমউদদীন হল ছাত্রদলের নেতা মোহতাসিম বিল্লাহ হিমেল, শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রদল নেতা হাসানসহ আরো অনেকে ছিলেন বলে জানান ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান বিজয় ও ইমাম আল নাসের মিশুক এবং অন্যান্য নেতাকর্মীদেরও তেড়ে এসে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ করতে দেখা যায়।
আরেক ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাইজিং বিডি ডটকম এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার সৌরভ ইসলাম বলেন, “শফিকুর রহমান নামের এক কর্মী সাংবাদিকদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করলে আমরা এর প্রতিবাদ করি। এরপর কিছু জুনিয়র নেতাকর্মী আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলে যে আমি নাকি হামলার নির্দেশ দিয়েছি।”
তিনি আরো বলেন, “ওরা আমাকে জোর করে টেনে ভিড়ের মধ্যে নিয়ে যায় এবং মারধর করে। পরে অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। আমাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হচ্ছিল বুঝতে পেরে সেখান থেকে সরে যাই।”
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনাস্থলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় দেড় শতাধিক ছাত্রদল নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতারাও ছিলেন।
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

